আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের ওপর জনগণের বিশ্বাস আছে বলেই আমরা জয়লাভ করেছি। বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। উন্নয়নের কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। এখন মানুষের সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে দ্রব্যমূল্য। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, সেটা অনেকটা কমিয়ে এনেছি। কিছু কিছু মহল চক্রান্ত করে মূল্যস্ফীতি বাড়ায়। তবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এটাও সত্য। আগে এত ক্রয়ক্ষমতা ছিল না।’
গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে যৌথসভা হয়। সভায় টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন।
ভোট শেষে দোষারোপ ও অপরাধ খোঁজা বন্ধ করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় দল, অনেকেই নির্বাচন করতে চায়, সে জন্য নির্বাচনটাকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। যে বা যারা করতে চায় করুক। যারা নির্বাচন করেছে, কেউ জয়ী হয়েছে, কেউ পারে নাই। সে ক্ষেত্রে আমি সবাইকে অনুরোধ করব, একজন আরেকজনকে দোষারোপ করা বা কার কী অপরাধ, সেগুলো খুঁজে বেড়ানো বন্ধ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট, হাসি, কান্না সবকিছু মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। সবাইকে আবার এক হয় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের স্বার্থে জনগণের কল্যাণে মানুষের জন্য। মানুষের যে আস্থা, বিশ্বাস আমরা অর্জন করেছি, সেটা যেন কোনো মতে হারিয়ে না যায়।’
সংগঠনটা যদি পাশে না থাকে তো কোনো অর্জন করা সম্ভব হয় না বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রতিটা সাফল্যের পেছনে একটা শক্তি দরকার। আমার শক্তি বাংলাদেশের জনগণ, আওয়ামী লীগ এবং আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলো। আমাদের দল ছাড়া আরও কয়েকটি দল অংশগ্রহণ করেছে। আমরা জনগণের যে সমর্থন পেয়েছি, সেটা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে। দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছি, সেই ভোট দিয়েছে, আমাদের জয়ী করেছে।’
নির্বাচনটা যাতে না হয় সে জন্য অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা নির্বাচন করেছি।’
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দল নির্বাচন করেনি তারা তো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে অভ্যস্ত না। জাতীয়-আন্তর্জাতিক সব জরিপে স্পষ্ট ছিল বিএনপি তাদের জোট নিয়ে নির্বাচন করলে সরকার গঠন করার সাফল্য অর্জন করবে না। সেই পরিমাণ সিটও তারা পাবে না। একমাত্র আওয়ামী লীগের বেলায় বলা ছিল এককভাবে সরকার গঠন করার মতো পর্যাপ্ত সিট পাবে। এ কথা শোনার পর তারা নির্বাচনে আসবে না তা স্বাভাবিক।
বিএনপির সৃষ্টি হয়েছিল ক্ষমতা দখলকারীদের পকেট থেকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে তারা জানে ক্ষমতায় বসে নির্বাচন করতে। সবাই তাদের সেভাবে নির্বাচন করে দেবে। জনগণের ভোট চুরি করা, কারচুপি করা এসব সংস্কৃতি তো বিএনপির আমলেই সৃষ্টি। তারা ওইটাই ভালো বুঝত।
দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সজাগ থাকতে হবে অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসীদের বিষয়ে। যারা রেলগাড়িতে মা-সন্তান-শিশুকে পুড়িয়ে মারে, যারা বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মারে, ওই অগ্নিসন্ত্রাসীদের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তাদের মিথ্যাচার এবং এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। জনগণ তাদের এবার প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপিসহ সমমনাদের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা লিফলেট বিলি করেছে মানুষ যাতে ভোটকেন্দ্র না যায়। লিফলেট যত বেশি বিলি করেছে মানুষ তত বেশি ভোটকেন্দ্রে গেছে। তাদের কথায় মানুষ সাড়া দেয়নি। এই যে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস, সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়, অর্থাৎ তারা গণতান্ত্রিক পরিবেশই চায় না। গণতন্ত্র চায় না, নির্বাচন চায় না, তারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু। তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এদের কথা ছেড়ে দিয়ে আমাদের দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’
যৌথসভার শুরুতে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা শেষে টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পক্ষ থেকে।