তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে, অর্থাৎ শৈত্যপ্রবাহ হলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
যদিও গতকাল সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি অধিদপ্তর তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির নিচে নামলে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল। দুই ঘণ্টা পরে তা সংশোধন করে ১০ ডিগ্রি করা হয়। তবে উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো ধরনের নির্দেশনা আসেনি।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বগুড়ায় রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মাউশি অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ (তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ) প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান এই শৈত্যপ্রবাহে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যেসব জেলায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে (আবহাওয়ার পূর্বাভাসের প্রমাণসহ) নেমে যাবে, সেই সব জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হবে। মাউশির আঞ্চলিক উপপরিচালকরা ওই সব জেলার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বন্ধের এ নির্দেশ দেবেন। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তদূর্ধ্ব না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাবে, সেই সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভাগীয় উপপরিচালকরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিতে পারবেন। এই আদেশের কার্যকারিতা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
আমাদের বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জেলায় ভোর থেকে ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন, ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ। খেটে খাওয়া এসব মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হলেও কাজ পাচ্ছেন না।
সকালে শহরের মাটিডালী এলাকায় কাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা দিনমজুর আকাশ, সাইদুল, সুমনরা জানান, এই শীতে জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। উপায় নেই দেখে তারা বের হয়েছেন। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় কাজ পাচ্ছেন না।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, তাপমাত্রার ওঠানামা ও টানা ঘন কুয়াশার কারণে পাল্লা দিয়েছে বেড়েছে মানুষের নানান শীতজনিত রোগ ও কৃষি ফসলের। এ ছাড়া গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়ছে মানুষ। দিনভর সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। জরুরি শীতবস্ত্র চেয়ে জেলা প্রশাসক চিঠি পাঠিয়েছেন। গতকাল সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীতের কারণে কৃষি আবাদে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। জনজীবনের দুর্ভোগের সঙ্গে চরম বিপাকে পড়েছেন আলুচাষিরা। তীব্র শীতের কারণে আলুতে ছত্রাকের আক্রমণ বেড়েছে। পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। অতিমাত্রায় শীতের কারণে গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর্লি ব্লাইট দেখা দেওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চাষিরা বলছেন, সমস্যা মোকাবিলা করতে গিয়ে দুই-এক দিন অন্তর ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নইমুল হুদা সরকার জানান, আলুক্ষেত কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সময়মতো ছত্রাকনাশক স্প্রে করায় এবং তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হবে।