সড়ক-মহাসড়কে মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘœ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী হাট-বাজার, অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং সরানোর নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।
এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। রুলে গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী হাট-বাজার ও স্থাপনা সরাতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন জনস্বার্থবিরোধী ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এসএম বদরুল ইসলাম ও এম সরোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে সড়ক-মহাসড়কের দুপাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা, হাট-বাজার সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা ওই রিট আবেদনের রায়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ২৪ নির্দেশনা ছিল।
এই রিট মামলার আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই রায়ের পর কিছু কিছু জায়গায় কাজ হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে অগ্রগতি প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছিল। তবে, রায় যথাযথ প্রতিপালন পরে হয়নি। গতকাল আদেশ হওয়া রিট মামলার আইনজীবী বদরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৭ সালের ওই রায় যথাযথভাবে প্রতিপালন না হয়ে থাকলে বা অগ্রগতি প্রতিবেদন না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করতে বলেছে হাইকোর্ট।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের বেশি সড়কপথে ২০১২ সালে প্রকল্প শুরু হয়। কিন্তু ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১১ বছরেও সেটি শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ না হওয়ার নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা ও হাট-বাজার সরানোর নির্দেশনা চেয়ে সম্প্রতি এ রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএম বদরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় যানজটসহ নানা কারণে মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা ও বাজারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এরপর গতকাল একটি সম্পূরক আবেদনে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা ও বাজার সরানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়। তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমনের মতো যান চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।