মণিপুরের অব্যাহত সহিংসতার মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘ অস্থিরতার লাগাম টানতে মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া স্থাপন করতে অগ্রসর হচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু নয়াদিল্লিকেন্দ্রিক সরকারের এই উদ্যোগকে বস্তুত চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছে উত্তর-পূর্বের নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের বন্ধন দৃঢ় হওয়ায় ভ্রাতৃত্বকে সীমানার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এসব জনগোষ্ঠী।
মিয়ানমার ও ভারতের মধ্যে ‘ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম (এফএমআর)’ ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তের ভেতরে ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারে সীমান্তবর্তী মানুষ। মণিপুরের সাম্প্রতিক সহিংসতার জেরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই ব্যবস্থা বাতিল করে বেড়া স্থাপন করতে চাইছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সম্ভাব্য ব্যবস্থাকে নৃতাত্ত্বিক যোগাযোগ ছিন্নকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখে নাগা স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এনএসএফ)। নাগাল্যান্ডসহ উত্তর-পূর্বের নাগা জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে সরব এই সংগঠন গতকাল বুধবার একটি বিবৃতিতে বলে, ‘এই সিদ্ধান্ত ইতিহাসকে উপেক্ষা করা এবং নাগা জনগোষ্ঠীর অধিকারের ওপর আঘাত। এ ধরনের জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ উত্তর-পূর্বে সংঘাত বাড়াবে।’ মণিপুরের গতকাল মিয়ানমার সীমান্তবর্তী মোরেহ শহরে অস্ত্রধারীদের হামলায় এক পুলিশ কমান্ডো নিহত হয়েছেন। হামলাকারীরা নিরাপত্তা চৌকিতে বোমা ফেলে এবং গুলি চালায়। মণিপুরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং গত আট মাসের সহিংসতায় বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেন, মিয়ানমার থেকে এসে মণিপুরে সহিংসতা ছড়ানো হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এফএমআর তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। মণিপুরে গত আট মাস ধরে হিন্দু বৈষ্ণবী ধর্মের মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কুকি-জো জনগোষ্ঠীর মানুষের জাতিগত সংঘাত চলছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী এন বীরের সিং জানান, আদিবাসী জনজাতিদের কারও কারও তফসিলি জাতির (শিডিউলড ট্রাস্ট-এসটি) মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর সহিংসতার মাত্রা বাড়ছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারও দুই দেশের সীমান্ত বরাবর বেড়া দেওয়ার তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছে।
ভারতের মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের এক হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নৃতাত্ত্বিক যোগাযোগ ব্যাপক। নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মণিপুর ও অরুণাচলের সীমান্তবর্তী নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বহুবার বেড়া দেওয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।