ন্যাটোর দৃষ্টিভঙ্গিই প্রকৃত সংকট!

গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমাদের অবিচল সমর্থনের ঘাটতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বি অর্থনৈতিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সহায়তার প্রবাহ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ন্যাটোর দৃষ্টিভঙ্গিই যুদ্ধে জেতার অন্তরায়। 

গত বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, তিনি আত্মবিাসী যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে ইউক্রেনের জন্য জরুরি সহায়তার দুয়ার খুলতে সমর্থন দেবে। ২৭ সদস্যের মত নিয়েই একটি প্রস্তাবনা পাস করা যাবে।

ইইউভুক্ত ২৭ সদস্যের মধ্যে একমাত্র হাঙ্গেরি ছাড়া বাকিরা ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে রাজি। এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি। অবশ্য বিকল্প একটি পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনার আওতায় ২৬টি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে ইউক্রেনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হতে পারে। এ অবস্থায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েই আলোচনা চলছে। কারণ যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়াকে পরাস্ত করতে অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করার কথা জানিয়েছিল জোটটি। কিন্তু জোটের প্রধান ভরকেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণ কিয়েভে সহায়তা দেওয়া আটকে দিয়েছে। ন্যাটোর অ্যাডমিরাল রব বাউয়ার গত বুধবার বলেন, রাশিয়ার বাহিনীকে যদি সত্যিই পরাস্ত করতে হয়, তাহলে পশ্চিমা সামরিক বাহিনী এবং নেতৃত্বকে দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতির সাপেক্ষে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। 

ন্যাটো জোটের সামরিক মহড়ার কথা জানিয়ে বাউওয়ার আরও বলেন, ‘পূর্ণ কার্যকারিতার সঙ্গে এবং ভবিষ্যতে ন্যাটো জোটকে যুদ্ধে লড়াই করার জায়গায় রূপান্তরিত হতে হবে।’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে,  ন্যাটো এবং ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বের যৌথ পরিষদের বৈঠকটি হবে এই সপ্তাহেই।

ওই ন্যাটো কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘ইউক্রেন কিংবা অন্য কোনো জায়গা থেকে রাশিয়ার ওপর কোনো হুমকি আসছে- এই কারণে যুদ্ধটি রাশিয়া চালাচ্ছে না। বরং রাশিয়ার ভয় হচ্ছে, গণতন্ত্র হলো পৃথিবীর যেকোনো বস্তুগত অস্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী। ইউক্রেনের মানুষ যদি গণতান্ত্রিক অধিকার পায়, তাহলে তা রাশিয়ার মানুষও চাইবে। এটিই হচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধের যাওয়ার মূল কারণ।’