সময় বাড়িয়েও অপূর্ণ হজের অর্ধেক কোটা

হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় দ্বিতীয় দফায় বাড়ালেও প্রায় অর্ধেক কোটা পূরণ হয়নি। হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময়সীমা গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী কোটায় ৩ হাজার ৮০২ ও বেসরকারি হজযাত্রী কোটায় ৪৯ হাজার ৩৭১ জন নিবন্ধন করেছেন। ৭৪ হাজারের বেশি কোটা খালি রয়েছে। অথচ হজে গমনেচ্ছুক অপেক্ষমাণ প্রাক-নিবন্ধিতের সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি। সরকারি মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধিতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৬৮ আর বেসরকারি মাধ্যমে ১ লাখ ২ হাজার ৬৮৫ জন।

হজের কোটা পূরণ না হওয়ায় গত ১৫ জানুয়ারি সব মোবাইল অপারেটিং কোম্পানিকে বিনামূল্যে এ সংক্রান্ত খুদেবার্তা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। খুদেবার্তায় বলা হয়, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪-এর মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করে হজে গমন নিশ্চিত করুন।

জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এবারের হজ নিবন্ধন শুরু হয়, সময়সীমা ছিল ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে হজ নিবন্ধনের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় বাড়ায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

হজ নিবন্ধনের সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রবিবার এ বিষয়ে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গত ২৮ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহা. আবু তাহির স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে হজে গমনেচ্ছুক ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হতে হজ চুক্তির আগেই হজযাত্রীর চূড়ান্ত সংখ্যা জানানোর তাগিদ থাকা সত্ত্বেও বিশেষ বিবেচনায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো। এ সময়ের মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন বা প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধন করা হলে প্যাকেজের অবশিষ্ট মূল্য আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবশ্যিকভাবে একই ব্যাংকে জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় হজে যাওয়া যাবে না এবং প্রদত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

একাধিক বেসরকারি হজ এজেন্সির মালিক জানিয়েছেন, নিবন্ধনের সময়সীমা যৌক্তিক কারণেই বাড়াতে হবে। হজ এজেন্সি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অনেকেই ব্যস্ত ছিল। একই সময়ে বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধসহ টানা কর্মসূচি ছিল। এ ছাড়া বেশিরভাগ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এ কারণ হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনে ধীরগতি চলছে।

হজ নিবন্ধনে আশানুরূপ সাড়া কেন পাওয়া যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে আলওয়াসি হজ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও নীড় ট্রাভেলসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুল গাফফার খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবছর হজ নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয় জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু এ বছর সৌদি সরকার হজের কার্যক্রম এগিয়ে এনেছে এবং হজ প্যাকেজ সেভাবেই অনেক আগে ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ হজযাত্রীরা প্রস্তুত না থাকায় চূড়ান্ত নিবন্ধনে এই ধীরগতি।’

তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ করে দেখবেন, জানুয়ারির মাঝামাঝিতে এসে নিবন্ধনের গতি বেড়েছে। মানুষ অন্যান্য বছরের মতো জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির প্রস্তুতি নিয়ে আছে, আমার ধারণা ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলে, হজযাত্রীর সংখ্যা লাখের ওপর যাবে।’

বাংলাদেশ থেকে এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমের কোটায় ১০ হাজার ১৯৮ ও বেসরকারি কোটায় ১ লাখ ১৭ হাজার জন হজ পালন করতে পারবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগ্রহী হজযাত্রীরা শুরুতে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন এবং প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে প্রাথমিক নিবন্ধন করার পর ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবশ্যিকভাবে প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা জমার মাধ্যমে চূড়ান্ত নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারিভাবে এ বছর হজে যেতে সাধারণ প্যাকেজে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। বিশেষ প্যাকেজের মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হবে ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম প্যাকেজের (সাধারণ) খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৩ সালের সাধারণ হজ প্যাকেজের চেয়ে ৮৩ হাজার ২০০ টাকা কম। আর দ্বিতীয় প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা।

গত বছর ৯ দফা বাড়ানো হয় নিবন্ধনের সময়। এর মধ্যে কোটা পূরণ হয়নি, ৬ হাজার ৭০৭ জন বাকি ছিল। তবে হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে সাড়ে তিন হাজারের কোটা খালি থাকে। নিবন্ধনের কোটা পূরণ না হওয়ার কারণ হিসেবে হজের ব্যয় বেশি বলে ধারণা করা হয়েছিল।