সহিংসতার স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশে ভোটের আগে-পরে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে এসব ঘটনা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সহিংসতায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

এ ছাড়া বিরোধী দলের ‘হাজার হাজার’ নেতাকর্মী গ্রেপ্তারে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বাংলাদেশে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলেও আবার মন্তব্য করেন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনের মধ্যে গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টিতে জয় পেয়ে ইতিমধ্যে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। একাদশ সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে পেছনে ফেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে একজন ছাড়া বাকি স্বতন্ত্ররা আওয়ামী লীগেরই নেতা। আর জাতীয় পার্টির আসন কমে অর্ধেকের চেয়ে বেশি দাঁড়িয়েছে ১১টি।

নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক সহিংসতা হয়। নিহত হন এক পুলিশ সদস্য। এরপর থেকে বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে নানা সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ভোটের দিন ও ভোটের পরেও সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

ভোটের পরদিন এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।

ওই বিবৃতিতেও সহিংসতা ও বিরোধী দলের হাজারো নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে মিলারের কাছে প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং বিরোধী দলের হাজারো নেতাকর্মীকে কারাগারে আটক রাখার মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে? আপনি এর আগে বিবৃতিতে বলেছিলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি।’

জবাবে মিলার বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের হাজারো নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় এখনো উদ্বিগ্ন। আমরা অন্য পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জেনেছি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। সব দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আমরা দুঃখিত এবং নির্বাচনের সময় ও আগের মাসগুলোতে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানাই।’

ম্যাথু মিলার বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সহিংস ঘটনাগুলোর বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ তদন্ত, জড়িতদের জবাবদিহিতায় আনতে এবং সব পক্ষকে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানাই।’

আরেক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্র বলেছে বাংলাদেশে নির্বাচনের ফলাফল বিশাসযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না, তার মানে কি শেখ হাসিনার টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসাকে স্বীকৃতি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র?

জবাবে মিলার কেবল বলেন, ‘না, না।’

উল্লেখ্য, গত বুধবার বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আগামী দিনগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান পিটার হাস।