সিন্ডিকেটে জিম্মি বাণিজ্য মেলার দোকান বরাদ্দ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা মানেই লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম, দেশি ও বিদেশি পণ্যের সমাহার ও ছাড়ের ছড়াছড়ি। অথচ এই বাণিজ্য মেলার দোকান বরাদ্দ জিম্মি হয়ে আছে সিন্ডিকেটের হাতে। ইপিবি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটটি নিজেদের নামে দোকান নিয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি দামে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছেন বছরের পর বছর ধরে। এসব বিষয়ে প্রতিবছর দালালদের ব্যাপারে অভিযোগ থাকলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের।

শিল্পাঞ্চল রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপ-শহরের ৪ নম্বর সেক্টর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থায়ী প্যাভিলিয়ন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না এক্সিবিশন সেন্টারে তৃতীয় বারের মতো বসতে যাচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮তম আসর। এ বারের আসরে দেশি বিদেশি মিলিয়ে মোট ৩৩০টি স্টল বসবে বলে ইপিবি সূত্রে জানা গেছে। মেলায় ভারত, পাকিস্তান, হংক, তুর্কিসহ অন্তত ১২টি দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করবেন। আজ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা তাদের স্টল নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে ব্যবসায়ীরা তাদের স্টল নিজেদের মতো করে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছে অন্যদিকে, একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট নিজেদের বরাদ্দ নেওয়া দোকান বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাণিজ্য মেলার ভেতরে ঘুরাঘুরির সময় দেখা যায় দালাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা ইসহাক ও তার সহযোগী নাজমুল, জুয়েল, স্বপন, শফিক, মনির, অভি সাহাসহ কয়েকজন মিলে ব্যবসায়ীদের দোকান ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। পরিচয় গোপন করে দালালের কাছে দোকান ক্রয়ের প্রক্রিয়া জানতে চাইলে দালাল সিন্ডিকেটটি মেলার ভবনের ভেতরে ও বাইরের দোকানের বেশকিছু পজিশন ঘুরিয়ে দেখান। এ সময় সিন্ডিকেটের সদস্যরা জানান তারা বহু আগে থেকে বাণিজ্য মেলায় দোকানের ব্যবসা করে আসছে। মেলার বেশিরভাগ ভালো পজিশনের দোকান ও প্যাভিলিয়ন তারা কিনে নিয়েছেন। যার মধ্যে সিংহভাগ কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে কিছু ভেতরের ৭ ফুট বাই ১০ ফুট দোকান রয়েছে যা কিনতে হলে খরচ করতে হবে ৮-১০ লাখ টাকা। এ সময় দালাল সিন্ডিকেটের সদস্য স্বপন বলেন, ইপিবি থেকে দোকান বরাদ্দ নিতে হলে তাদের দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। কোনো কোনো সময় আরও বেশি টাকাও লাগে।

পরে আরও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইসহাক, শফিক, জুয়েল, মাহবুব, মনির হোসেন ও অভি সাহা, মাহবুব, আওলাদসহ ১১টি সিন্ডিকেট রয়েছে যারা ইপিবি থেকে দোকান বরাদ্দ নিয়ে তিন থেকে চারগুণ দামে বিক্রি করে চলছে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই এ সিন্ডিকেটটি পরিচালনা করে আসলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ইসহাক, মাহবুব, অভি সাহাসহ কয়েকটি দালাল সিন্ডিকেট ইপিবির কাছে নির্ধারিত মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি মূল্যে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। যারা দোকান পাননি তারা নিরুপায় হয়েছে অধিক মূল্যে দালালদের কাছ থেকে দোকান কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। দালাল চক্রটি ১০ স্কয়ার ফুটের দোকান বিক্রি করছে ছয় থেকে আট লাখ টাকায়। ইপিবি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দালাল চক্ররা দোকান বরাদ্দ নিয়ে অধিক মূল্যে দোকান বিক্রি করছেন।

এ ব্যাপারে দালাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা ইসহাকের সঙ্গে  মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আপনি আমার সঙ্গে সরাসরি এসে দেখা করেন।

এ ব্যাপারে ইপিবির অতিরিক্ত সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক বিভেক সরকারের  মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।