দেশে করোনা শনাক্তের হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বছরের প্রথম দিন পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) শনাক্তে হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশে। গত ২০ দিনে গড় শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বা সাড়ে ৪ শতাংশ করে। অথচ এর আগের মাস, অর্থাৎ গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ ২০ দিনে দৈনিক গড় শনাক্তের হার ছিল ১ শতাংশ করে। সে হিসাবে এ মাসে শনাক্ত হার চারগুণ বেশি।
এদিকে ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ১৩ জন মারা গেছে।
বাড়ছে করোনা সংক্রমণ : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসের গত ২০ দিনে রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪০২। অথচ আগের মাসের শেষ ২০ দিনে রোগী ছিল ১১৭ জন। সে সময় মৃত্যুশূন্য থাকলেও এ মাসের একই সময়ে দুজন মারা গেছে।
এ মাসের শুরু থেকেই করোনা সংক্রমণ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার দেশে করোনার ওমিক্রনের নতুন উপধরন ‘জেএন.১’ শনাক্তের কথা জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করে জানুয়ারির শুরু থেকেই কভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের মানুষকে সতর্ক করে আসছে। মাস্ক পরাসহ করোনা টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারও এপ্রিল থেকে আবার করোনা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রায় চার বছর আগে ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। করোনা শনাক্তের জন্য এ পর্যন্ত ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৭২৪ জনের। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মারা গেছে ২৯ হাজার ৪৭৯ জন। সর্বশেষ ১৪ জানুয়ারি মারা গেছেন ঢাকার একজন নারী। তার বয়স ছিল ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
ডেঙ্গুতে আরও মৃত্যু : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে ঢাকার বাইরে আরও দুজন মারা গেছে। চলতি বছরের এ পর্যন্ত যে ১৩ জন মারা গেছে তাদের মধ্যে সাতজন ঢাকায় ও ছয়জন ঢাকার বাইরে মারা গেছে। নয়জনই নারী, বাকি চারজন পুরুষ। অথচ আক্রান্ত বেশি পুরুষরা, যা মোট রোগীর ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বাকি ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ রোগী নারী।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকায় ও ১২ জন ঢাকার বাইরে। এ নিয়ে চলতি বছর রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮২১। তাদের মধ্যে ২৯৮ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকায় ও ৫২৩ জন ঢাকার বাইরে।
চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৬ শতাংশ। ঢাকায় মৃত্যুহার ২ দশমিক ৩ শতাংশ ও ঢাকার বাইরে ১ দশমিক ১ শতাংশ।