জার্মানিতে দিন দিন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সক্রিয় হচ্ছে নব্য নাৎসি হিসেবে পরিচিত উগ্র ডানপন্থীরা। জার্মানি থেকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। তাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করার অভিযোগ উঠেছে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ডের (এএফডি) বিরুদ্ধে। নাৎসি এবং এএফডির এই গোপন আঁতাত প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে গোটা জার্মানি, রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করছে লাখো মানুষ।
এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দিতে নব্য নাৎসি ও এএফডির বৈঠকের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রাস্তায় নেমে আসছে মানুষ। শনিবার জার্মানিতে এক লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেছে।
ফ্রাঙ্কফুর্টে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেছে, এসময় তাদের ব্যানার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘ ডিফেন্ড ডেমোক্রেসি, ফ্রাঙ্কফুর্ট এগেইনস্ট দ্য এএফডি’। হ্যানোভারে বিক্ষোভকারীরা ‘নাৎসিদের বের করো’ ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। এছাড়া জার্মানির আরও কয়েকটি ছোট ছোট শহরেও নাৎসি ও উগ্র ডান এএফডির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। রাজনীতিক, গীর্জা এমনকি বুন্দেসলিগার কোচদের তরফ থেকেও এএফডির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গার্ডিয়ান বলছে, সম্প্রতি নব্য নাৎসি ও এএফডি পার্টির মধ্যে একটি বৈঠক হয়, সে বৈঠকে জার্মানি থেকে অভিবাসন প্রত্যাশী, অন্যদেশের বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক যারা মূলধারায় আসতে পারেনি তাদের গণহারে দেশ থেকে বের করে দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। এই খবর প্রকাশে আসার পরেই শুরু হয় বিক্ষোভ।
এমনকি ওই বৈঠকে অস্ট্রিয়ান উগ্র ডানপন্থী মার্টিন সেলনারও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেলনার ও তার সংগঠন অস্ট্রিয়ান আইডেন্টিটারিয়ান মুভমেন্ট একটি ষড়যন্ত্রে বিশ্বাসী ,তারা সন্দেহ করে অ-শ্বেতাঙ্গ অভিবাসীরা ইউরোপের শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে হটিয়ে গোটা ইউরোপ নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেবে!
জার্মানিতে উগ্রপন্থীদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে, সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলোও বলছে এএফডির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিকে জার্মানির গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীনরাও। এমনকি জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজও গত সপ্তাহে নাৎসি বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হন। সেসময় তিনি বলেন, ‘অভিবাসী, নাগরিকদের গণহারে বের করে দেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনা আমাদের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ, একই সঙ্গে আমাদের সবার বিরুদ্ধেও সর্বাত্মক আক্রমণ।’