ডানপন্থী দলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

জার্মানির উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর এরফুর্টে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় সম্মেলনস্থলে যাওয়ার বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা।

শ্রমিক সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এ বিক্ষোভে অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের হিসাবে, এরফুর্ট ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

সম্মেলনের প্রথম দিনেই দলটির দুই শীর্ষ নেতা অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালাকে আবারও নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের নেতৃত্বেই সাম্প্রতিক জনমত জরিপে এএফডি জার্মানির অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।

অভিবাসনবিরোধী অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে এএফডি। সম্মেলন শুরুর আগে দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'সেন্ড দেম ব্যাক' (তাদের ফিরিয়ে দাও) শিরোনামের গান প্রচার করা হয়। সম্মেলনস্থলে 'আপনাকেও বহিষ্কার করা হবে', এমন স্লোগানসংবলিত পোস্টকার্ডও বিক্রি করা হয়।

দলটির বিতর্কিত নেতা বিওর্ন হ্যোকে বক্তব্যে জার্মানির আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার অবনতির অভিযোগ তুলে বলেন, একটি 'মহান জার্মানি' হবে এমন দেশ, যেখানে মানুষ রাতে নির্ভয়ে হাঁটতে পারবে এবং ঘরের চাবি দরজার বাইরে রেখেও নিরাপদ থাকবে।

আগামী সেপ্টেম্বরে স্যাক্সনি-আনহাল্ট ও মেকলেনবুর্গ-ফরপোমার্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব নির্বাচনে ভালো ফল জাতীয় রাজনীতিতে দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করছে এএফডি।

দশ বছরের বেশি আগে প্রতিষ্ঠিত এএফডি জাতীয়তাবাদী বক্তব্য, কঠোর অভিবাসননীতি এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতায় অসন্তুষ্ট ভোটারদের সমর্থন নিয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দলটির সমর্থন প্রায় ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্জের নেতৃত্বাধীন সিডিইউ/সিএসইউ জোটের চেয়েও বেশি।

তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এএফডির নীতিতে বর্ণবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের ছাপ রয়েছে, যা জার্মানির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে দেশটির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এএফডির সঙ্গে কোনো ধরনের জোট না করার নীতি অনুসরণ করে আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত