গাইবান্ধায় জেঁকে বসেছে শীত। সারাক্ষণ কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে এ অঞ্চল। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলগুলোর মানুষ শীতে জবুথবু। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামের (আদর্শপাড়া) নজীবুদ্দিন এসেছেন কম্বল নিতে। বয়সের ভারে ঠিকমতো চলতে-ফিরতে পারেন না তিনি। নদীগর্ভে ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে থাকেন সরকারের দেওয়া ঘরে।
তার গায়ে একটি কম্বল জড়িয়ে দেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সাংসদ মাহমুদ হাসান রিপন। কম্বল পেয়ে নজীবুদ্দিন বলেন, হামরা নদীর কাছে থাকি। বাপ-দাদার সব জোমি নদীত ভাঙগি গ্যাছে। এখোন গুচ্ছ গ্রামোত থাকি। চরের কাছোত গ্রাম। চারপাশে নদী। এটে গাছগাছালি কম। কুয়াশা আর উত্তরালি বাতাসে খাতায় (কাঁথায়) ঠাণ্ডা মোরে না। আজক্যা নরম তুলতুইলা কম্বল পাইছোম। এ্যাখোন এই কম্বলে যদি এট্টু আরাম হয়।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে হাসিমুখে এসব কথা বলেন কম্বল নিতে আসা নজীবুদ্দিন। কম্বলটি পেয়ে হাসিমুখে দোয়াও করেন তিনি।
আজ রবিবার সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা-৫ আসনের সাংসদ মাহমুদ হাসান রিপনের উদ্যোগে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের পুরাতন উপজেলা প্রাঙ্গণে কম্বল বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলার প্রায় ২ হাজার পরিবারের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হবে। চরাঞ্চলের পাশাপাশি এ অঞ্চলের অসহায় প্রবীণদের পরিবারের মধ্যে এ সহায়তা দেওয়া হয়।
কম্বল বিতরণের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খুশি, ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান প্রমুখ।