পাকিস্তানের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত পাকিস্তানের রাজনীতি। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের নেতা নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে ফের আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। এদিন বিলাওয়াল বলেন, নওয়াজ যদি আবারও ক্ষমতায় আসেন, তবে তার ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ দেশ ও দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে।
এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার পাঞ্জাব প্রদেশে আয়োজিত সমাবেশে বক্তৃতা দেন বিলাওয়াল। এসময় তিনি বলেন, ‘যেসব প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রতিহিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করা ছাড়া জনগণের জন্য কিছু করেননি। তাদের অন্যায্য কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছে পাকিস্তান।‘
ক্ষমতায় এলে দেশ থেকে সব অন্যায্য কর্মকাণ্ড নির্মূল করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিলাওয়াল সমাবেশে আগত মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘তিন মেয়াদে থেকেও নওয়াজ শরিফ জনগণের সেবা করেননি। চতুর্থ মেয়াদে তিনি আর কী করবেন?’
বিলাওয়াল দাবি করেন, নওয়াজের দল সব সময়ই জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছে। তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে পিপিপিকে নির্বাচিত হতে হবে, যেন আবারও জনগণ, কৃষক, শ্রমিক, তরুণ ও নিপীড়িতদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।’
পিপিপি এবং পিএলএম-এন ভোটের আগে একে অন্যের বিরুদ্ধে বাক্যবাণ ছুড়লেও দেশটিতে ইমরান খানের সরকার হটানোর পর তারা একজোটে সরকার চালিয়েছে। ওই জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। ধারণা করা হচ্ছে- ভোটের আগে দুই দল বিরোধী অবস্থান জানান দেওয়ার কারণ একটাই। সেটি হচ্ছে ইমরান খান বিহীন নির্বাচনে নিজেদের সামনে আসা সুযোগকে কাজে লাগানো। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে বিলাওয়াল, নওয়াজদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন ইমরান খান। কিন্তু নানা মামলায় ইমরান খানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতাদের দল ছাড়া করা হয়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ইমরানের দলের নির্বাচনী ‘ব্যাট’ প্রতীকও বাতিল করে দিয়েছে। ফলে এই নির্বাচনকে লোক দেখানো এবং ইলেকশনের বদলে সিলেকশন আখ্যা দিয়েছেন কারাবন্দি ইমরান খান।