৪ দাবি নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের চলমান বিচার কার্যক্রমে মন্থরতা, জটিলতা ও অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে এসে কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে স্মারকপত্র দেন। স্মারকপত্রের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে নির্মূল কমিটির ১৫টি প্রকাশনাও প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০১৫ সালে বিচারপতি এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের চলমান বিচারের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মন্থরতা ও জটিলতা দেখা দিয়েছে। তিনি দুটি ট্রাইব্যুনালের একটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং বিচারিক কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। নির্মূল কমিটি এবং সমমনা অন্যান্য নাগরিক সংগঠনের প্রবল বাধার কারণে বর্তমান ভবন থেকে ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলেও এই সব মামলার আপিল শুনানি তিনি বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে যে গতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল সেখানে শুধু ভাটাই পড়েনি একরকম স্থবির হয়ে গিয়েছে।

প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে তুলে ধরা চারটি দাবি হলো- ১. প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা কর্তৃক স্থগিত দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা ২. আপিলের জটিলতা নিরসনে আপিল বিভাগে আরও বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণসহ বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা ৩. কম্বোডিয়া ও অন্যান্য কয়েকটি দেশের মতো যুদ্ধাপরাধের মামলায় আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে দ্রুত আপিল শুনানি নিষ্পত্তি করা, ৪. পুরনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলার সকল কার্যবিবরণী ও দলিলপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, যাতে বিচারকার্য শেষ হওয়ার পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের প্যালেস অব জাস্টিসের মতো ট্রাইব্যুনালের বর্তমান ভবনটি জাদুঘর ও আর্কাইভে রূপান্তরিত করা যায়।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, সহসভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, কেন্দ্রীয় নেতা ও মানবাধিকারকর্মী আরমা দত্ত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর পুত্র আসিফ মুনীর তন্ময়, সমাজকর্মী কাজী মুকুল প্রমুখ।