প্রশ্ন জেএসডি নেতার

কোন সংসদের আইনমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন আনিসুল হক?

সংসদের সদস্য সংখ্যা নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা কি আগের সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে নাকি বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে- এমন প্রশ্ন রেখেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের মেহেরবা প্লাজায় দলের প্রধান কার্যালয়ে ‘৭ জানুয়ারি নির্বাচন ও সংসদ সাংবিধানিকভাবে অবৈধ' শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।

সভয় শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন ৬৪৮ জন সংসদ সদস্য আছেন। যেটা বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান কোনওভাবেই অনুমোদন করে না। সাংবিধানিক বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে আইনমন্ত্রী বলেছেন যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিতরা এমপি হিসেবে শপথ নিলেও সংসদে তারা কার্যভার গ্রহণ করার পর থেকে এমপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। সেই ক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে যায় তিনি আইনমন্ত্রী হিসেব যে বক্তব্য দিচ্ছেন, সেটা কি আগের সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে নাকি বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে?’

সভায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে হওয়া একটা প্রহসনের নির্বাচন। এই নির্বাচনে একটি আসনেও এমন কোনো প্রার্থী অংশ নেননি যিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুরাগ প্রত্যাশী নন।’

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘আগের সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হবার আগে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করা সাংবিধানিকভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা আছে, 'বর্তমান সংসদের মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, নতুন নির্বাচিতরা সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।' অথচ দেখা গেল আগের সংসদ সদস্যগণ মেয়াদ শেষ করার আগেই নতুন নির্বাচিতরা শপথ নিলেন।’

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রীতম দাশের পরিচালনায় এবং প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন দলের রাজনৈতিক সমন্বয়ক ফরিদুল হক। আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের মিডিয়া ও প্রচার সমন্বয়ক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন।