বর্তমান সংসদ পুরোটাই ব্যবসায়ীদের দখলে: প্রিন্স

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০২ পিএম

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ শ্লোগানের অন্তরালে দেশে চলছে স্মার্ট দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, দালালি আর ভয়ের রাজত্ব। এই জুলুমশাহী ধারাকে অব্যাহত রাখতে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করা হচ্ছে, যেখানে ভিন্ন কোনও রাজনৈতিক মত ও পথকে সহ্য করা হচ্ছে না। এ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে লোভ আর ভয়কে উপেক্ষা করে সর্বত্র অন্যায়-অবিচার রুখে দাঁড়াতে হবে।

আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি কমরেড ডা. সাজেদুল হক রুবেলের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড লূনা নূর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড মোতালেব হোসেন, কমরেড জয়নাল আবেদিনন, জেলা কমিটির সদস্য আলী কাউসার মামুন প্রমুখ।

প্রিন্স আরও বলেন, সংসদে যাওয়া অধিকাংশ রাজনীতিক বিনাপুঁজির লাভজনক ব্যবসায়ী। কারণ তারা বিনাভোটে নির্বাচিত। আর বর্তমান সংসদ তো পুরোই ব্যবসায়ীদের দখলে। এবারের একদলীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় এটা পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে। সাজানো ভোটের এই একদলীয় সংসদ চলতে থাকলে আরো আইন প্রণীত হবে লুটেরা ব্যবসায়ী আর কর্তৃত্ববাদী শাসনের স্বার্থে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ হবে উপেক্ষিত। বর্তমান ও বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় থাকা শাসকগোষ্ঠী নিজেদের পরিবার,গোষ্ঠী, দলের অনেকের উন্নয়ন করলেও গণমানুষের উন্নয়ন হয়নি।

কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, আমাদের দেশ ও কৃষক সমাজ এক ভয়াবহ সংকটে নিপতিত। কৃষকরা ফসলের দাম পাচ্ছে না, জনগণ ভোটের অধিকার পাচ্ছে না। আমরা একটি বিকল্প রাজনীতি নির্মাণ করতে চাই যেখানে সকল মানুষের জীবনের দাম থাকবে, রাষ্ট্র হবে শোষণহীন।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডা. সাজেদুল হক রুবেল বলেন, নগরের মানুষ ভয়াবহ সংকটে নিমজ্জিত। একদিকে দ্রব্যমূল্য ও অন্যাদিকে (পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাড়িভাড়া) নানান নাগরিক ব্যয় আকাশচুম্বী। এই ঢাকা শহর পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত নগরের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। আমাদের এই নগরে প্রায় ৫০ লক্ষ নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ বসবাস করে কিন্তু তাদের জন্য সরকারের কোনও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি বিগত দিনে। তিনি এই শ্রমজীবী মানুষকে এই জালিম অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে লড়াইয়ের আহ্বান জানান।

ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড লুনা নূর বলেন, এই শহরকে বাসযোগ্য করতে প্রয়োজন সকলের জন্য বিশেষ করে শ্রমজীবী প্রান্তিক মানুষবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করা। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে বাদ দিয়ে এই নগর একদিনও যেমন চলবে না। তাই তাদের কথাও প্রতিদিন আামাদের ভাবতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নগর কমিটির নেতা রিয়াজ উদ্দিনন, আশিকুল ইসলাম জুয়েল, শান্তনু কুমার দাশ, উত্তরা থানার নেতা সাইদুল ইসলাম, হকার্স নেতা রফিকুল ইসলাম, যুবনেতা ইরান মোল্লা, ছাত্রনেতা লাবলী হক প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত