জাপা থেকে একসঙ্গে ৬৬৮ নেতাকর্মীর পদত্যাগ

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের ১০টি থানার ৬৬৮ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন জাপার ঢাকা মহানগর উত্তরের সদ্য বহিষ্কৃত আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

সভায় বলা হয়, পর্যায়ক্রমে আরও নেতা পদত্যাগ করবেন। সেই সঙ্গে জাতীয় পার্টি নতুন করে ব্র্যাকেটবন্দি করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। সভা শেষে নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে নানা সেøাগান দেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই গণপদত্যাগ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে একে একে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন নেতাকর্মীরা। জাপার বহিষ্কৃত প্রেসিডিয়াম মেম্বার সুনীল শুভ রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই পদত্যাগের তালিকা আরও লম্বা হবে।

তবে জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম বলেছেন, তারা এ ধরনের কোনো পদত্যাগপত্র পাননি।

‘গণপদত্যাগ’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পাঠান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বহিষ্কৃত ভাইস চেয়ারম্যান সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহ হিয়া চৌধুরী, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য শাহীন আরা সুলতানা রিমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলন বলা হয়, পর্যায়ক্রমে আরও নেতাকর্মী পদত্যাগ করবেন। সেই সঙ্গে জাতীয় পার্টি নতুন করে ব্র্যাকেটবন্দি করার ইঙ্গিত দেন পদত্যাগকারীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা পদত্যাগ করে চলে যাবেন, তাদের বিষয়ে কিছুই বলার নেই। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পেছনে চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে দায়ী করে তাদের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত প্রার্থীরা। এ ঘটনায় মদদ দেওয়ার কথা বলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়কে দলের সব পদন্ডপদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে বহিষ্কারের তালিকায় যুক্ত হন দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াহ ইয়া চৌধুরী ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম।

গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাপার পরাজিত প্রার্থীরা সভা করে আনুষ্ঠানিকভাবে জিএম কাদের ও মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে অসহযোগিতাসহ নির্বাচনে জাপার অংশগ্রহণ কতটা নৈতিক ছিল, সে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেছিলেন, নির্বাচনে গিয়ে জাপা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে। নির্বাচনে অংশ না নিলে জিএম কাদের জাতির কাছে নায়ক হতেন।

একই দিন সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর সুপারিশক্রমে পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঢাকা মহানগর উত্তরের মেয়াদোত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করেছিলেন।