পাকিস্তানে ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। গত বছর সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক সরব হয়ে এখন নানা মামলায় কারাগারে আটক আছেন ইমরান খান, তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাদের অনেকেই দল ছেড়েছে। ইমরান ও তার দলের অভিযোগ তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখতেই এতো কিছু। ইমরান বিহীন নির্বাচনে এবার নওয়াজ শরিফ ও বিলাওয়াল ভুট্টোর মধ্যে কেউ একজন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন, এমনটা ধারণা করা হচ্ছে। তারা দুজনই দেশটির সর্বোচ্চ মহল অর্থাৎ সামরিক বাহিনীর অনুগ্রহ পাচ্ছেন এমন অভিযোগ রয়েছে ইমরানের শিবির থেকে। এমনকি ইমরানের দল এবার তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘ব্যাট’ও পায়নি। এবার অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের মিডিয়া থেকেও ইমরানের দল পিটিআইকে ‘মাইনাসের’ নির্দেশনা এসেছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি সাংবাদিকদের কাছে ইমরানের খবর প্রচার না করতে বার্তা আসছে সামরিক বাহিনীর কর্তাদের কাছ থেকে। পাকিস্তানের গণমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার দলের নির্বাচনী প্রচার না করার নির্দেশনা দিয়েছে এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা। দেশটির সিনিয়র এক সাংবাদিক নাম গোপন রেখে আল-জাজিরাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওই সাংবাদিক বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এক সামরিক কর্মকর্তা তাকে ফোন করে জানিয়েছেন ইমরানের দল পিটিআইয়ের কোনো পতাকা বা দলের কারও প্রচার করা যাবে না। দলীয় প্রার্থীকে স্বতন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মেহমুদ ছদ্মনাম ব্যবহার করা ওই সাংবাদিক জানান, অন্যান্য গণমাধ্যমে কাজ করা তার সহকর্মীরাও একই নির্দেশনা পেয়েছেন। ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে পিটিআইয়ের প্রচারে সেন্সর জারি করা হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে উত্তাল পাকিস্তানে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইমরান খানের দল পিটিআই। বিগত জরিপগুলোর ফল তেমনটাই আভাস দিয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরান খানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও অন্যান্য নেতাদের চেয়ে অনেক বেশি। তবে নির্বাচনে ইমরান খানসহ তার দলের একাধিক নেতার মনোনয়ন বাতিল করেছে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্ট পিটিআইয়ের নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাটও বাতিলের আদেশ দিয়েছে।পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে আগে থেকেই ইমরানের বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ। এখন পিটিআইয়ের প্রচারের সংবাদ প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা আসলো।
মেহমুদ বার্তাটি পাওয়ার পর তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে। এরপর চ্যানেলের সবাইকে সব ধরনের ভিজ্যুয়াল, গ্রাফিক্স থেকে পিটিআই শব্দ সরিয়ে ফেলতে নির্দেশনা দেওয়া হয় ।
এমন সাতজন শীর্ষ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে আল-জাজিরা। তাদের বেশিরভাগই নাম প্রকাশ করতে চাননি। লাহোরভিত্তিক একজন শীর্ষ সংবাদ প্রযোজকও নিশ্চিত করেছেন, তাদেরকে পিটিআইয়ের রেফারেন্স বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে পিটিআইয়ের নাম কিংবা পতাকা যেন কোথাও দেখানো না হয়। তাদের প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।’
তবে পাকিস্তান সরকার এই এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথ্যমন্ত্রী মুর্তাজা সোলাঙ্কি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো নির্দেশনা দেইনি।’
দেশটির মিডিয়া নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (পেমরা) এর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে তারা এমন কোনো নির্দেশনা দেয়নি। আল-জাজিরা বিষয়টি জানার জন্য আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর-আইএসপিআর এর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। তবে তারা এই প্রশ্নে কোনো জবাব দেয়নি।