ইসরায়েলকে গণহত্যা ঠেকানোর আইসিজের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গতকাল শুক্রবার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকা- ঠেকাতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছে। সেইসঙ্গে বেসামরিক মানুষকে আরও সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। তবে মামলা দায়েরকারী পক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা চেয়েছিল, আদালত যাতে যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরায়েলকে চাপ দেয়। কিন্তু আদালতের তরফ থেকে এই ধরনের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

ফিলিস্তিনি জনগণ প্রত্যাশা করেছিল, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরভিত্তিক আদালত হয়তো গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

আইসিজের আদেশে বলা হয়, গণহত্যা ঠেকাতে ইসরায়েলকে নিজের কর্তৃত্বে থাকা ক্ষমতার সব ব্যবহার করতে হবে। গাজায় গণহত্যার মতো কোনো কিছু যেন ইসরায়েলি সেনারা না ঘটায় তা নিশ্চিত করতে হবে। আর সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। গত শতকের গোড়া থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত ইউরোপসহ নানা জায়গায় ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত নিধনযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে গণহত্যা প্রতিরোধে তৈরি হওয়া জেনেভা সনদ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেই গণহত্যার অভিযোগ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ হরণকারী গাজা যুদ্ধে গণহত্যা হয়েছেশ্ব এমন মন্তব্য করেনি আদালত। 

গতকাল আদালত আরও বলেন, গণহত্যার সনদ অনুযায়ী ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রতি জিম্মিদের ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গাজায় গণহত্যার অভিযোগে গত ডিসেম্বরে আইসিজেতে মামলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি মাসের শুরুর দিকে আদালতে দুই দিন শুনানি হয়। এরপর গতকাল জরুরি নির্দেশনা জারি করা হলো। এরপর এই মামলার আলোকে দীর্ঘ শুনানি হবে। জাতিসংঘের এই আদালতে চূড়ান্ত রায় হতে দুই-তিন বছর থেকে শুরু করে আরও সময় লাগে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি একটি সাধুবাদযোগ্য সতর্কবাণী যে, ‘কোনো রাষ্ট্রই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’ হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি বলেন, এই আদেশ ‘দখলদারদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে এবং গাজায় তাদের (ইসরায়েলি) অপরাধকে উন্মোচন করে।’

আদালতের ঘোষণার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের যে ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ রয়েছে, তাকে নাকচ করে দিতে যে আপত্তিকর দাবি তোলা হয়েছিল, সেটি সোজা ভাষায় প্রত্যাখান করেছেন আদালত। ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছেশ্ব এই দাবি শুধু মিথ্যাই নয়, বরং আপত্তিকর।’

ইসরায়েল গাজায় যে যুদ্ধ চালাচ্ছে তা এরই মধ্যে ২৬ হাজারেরও বেশি প্রাণহানি ঘটিয়েছে। যুদ্ধটি চার মাসে পা দেওয়ার দোরগোড়ায়। চলতি যুদ্ধ বন্ধ করতে আদালতে মামলা করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটি আদালতের ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘বড় জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা প্রত্যাশা করে যে, ইসরায়েল আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রশ্নে হতাশ করবে না। প্রকাশ্যে নানা হুমকি দিলেও প্রত্যাশা থাকবে যে, এর পরিবর্তে ইসরায়েল নির্দেশ মেনে চলবে এবং তারা মানতে বাধ্য।’ আইসিজের আদেশের পর দক্ষিণ আফ্রিকার উপপ্রধানমন্ত্রী পল মামাতিলে এবং বিচারমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) কর্মীদের সঙ্গে নাচতে থাকেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আইসিজে আদেশ দিলেও নির্দেশ বাস্তবায়নের সক্ষমতা এর নেই।