বিশ্বের বৃহত্তম প্রমোদতরী ‘আইকন অব দ্য সিস’ যাত্রা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি বন্দর থেকে স্থানীয় সময় শনিবার এটি প্রথম যাত্রা শুরু করে। বিবিসি জানিয়েছে, আইকন অব দ্য সিস গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সাত দিনের সমুদ্রযাত্রায় যাচ্ছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ফিনল্যান্ডের তুর্কুতে একটি শিপইয়ার্ডে এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ৯০০ দিন। খরচ পড়েছে ২০০ কোটি ডলার। এটিতে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল। প্রমোদতরীটি আইফেল টাওয়ারের চেয়ে লম্বা। ৭ হাজার ৬০০ জন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম প্রমোদতরীটির দৈর্ঘ্য ৩৬৫ মিটার বা ১ হাজার ১৯৭ ফিট। প্রমোদতরীটিতে ২০টি ডেক, ৭টি সুইমিংপুল, ৬টি ওয়াটার স্ল্যাইড এবং ৪০টির বেশি রেস্তোরাঁ, বার ও লাউঞ্জ রয়েছে।
এরপরও যদি যাত্রীর একঘেয়ে লাগে, তাহলে তারা হারিয়ে যেতে পারেন সুরের জগতে। প্রমোদতরীটিতে আছেন ৫০ জন সংগীতশিল্পী ও কমেডিয়ান। আছে অর্কেস্ট্রার আয়োজনও।
এদিকে প্রমোদতরীটির মিথেন গ্যাস নিঃসরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত প্রমোদতরীটি বাতাসে ক্ষতিকারক মিথেন ছড়াবে। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশনের (আইসিসিটি) মেরিন প্রোগ্রামের পরিচালক ব্রায়ান কমার বলেছেন, এটি একটি ভুল পদক্ষেপ। কারণ, আমরা অনুমান করেছি যে, সামুদ্রিক জ¦ালানি হিসেবে এলএনজি ব্যবহার করলে সামুদ্রিক গ্যাস তেলের তুলনায় ১২০ ভাগ বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হয়।
তবে রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আইকন অফ দ্য সিস’ আধুনিক জাহাজের জন্য আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের নির্ধারিত মানের চেয়ে ২৪ ভাগ বেশি শক্তি সাশ্রয়ী।
গত মঙ্গলবার আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি প্রমোদতরীটির উদ্বোধন করেন। অবশ্য তার আগেই প্রথম যাত্রার সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। কোম্পানি বলেছে, টিকিটের জন্য নজিরবিহীন চাহিদা দেখা গেছে। এক সপ্তাহ ধরে ক্যারিবীয় সাগরে ঘুরে বেড়ানোর পর মায়ামিতে ফিরে আসবে প্রমোদতরীটি।