একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হচ্ছেন অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক। নিয়মানুযায়ী তার নির্দেশনায়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনকে পাশ কাটিয়ে একটি চক্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। আদালত, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মানছেন না। প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটির সাবেক সভাপতি ঢাকার জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে ওই চক্র শিক্ষকদের স্বাক্ষর বন্ধ ও গণবদলি করছে। তারা মনিপুর স্কুলকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ফের অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
শিক্ষকরা বলছেন, অস্থিরতা সৃষ্টিকারী ওই চক্রে রয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী এবং কয়েকজন বহিরাগত। তারা প্রতিনিয়ত শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের অনিয়মের সঙ্গী হতে না চাইলেই শিক্ষকদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না। আবার ওই চক্রটিই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে অনেকটা গায়ের জোরে শিক্ষকদের গণবদলি করছে। তারা নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমেও বাধার সৃষ্টি করছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, অস্থিরতা সৃষ্টিকারী চক্রে রয়েছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিফট ইনচার্জ মশিউর রহমান, সাঈদা নারগীস, রেহানা সুলতানা ববি, মো. আজিজুর রহমান, স্থগিতকৃত অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য জাকিয়া শিল্পী, শিক্ষক প্রতিনিধি নূরা আলম, হিসাব রক্ষণকর্মকর্তা অসীম বালা, অবৈধ ট্রাস্টের একজন সদস্য এবং অভিভাবক প্রতিনিধির স্বামী মো. নাসির। গত ২৮ জানুয়ারি এই চক্রের নির্দেশে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও দীর্ঘদিন কর্মরত শিক্ষক রাশেদ কাঞ্চন, আলমগীর জামিল, মুস্তাফা আহমাদুল হক, খলিলুর রহমান নয়ন ও মুহাম্মদ জাকির হোসেনকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশনা ও মাউশি অধিদপ্তরের আদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ ছাড়াই তারা এ ধরনের অনিয়ম করে চলেছে।
এছাড়া ২৯ জানুয়ারি প্রায় ৪০ জন শিক্ষককে কোনো রকম চিঠি না দিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মৌখিকভাবে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত শিক্ষকগণ তাদের চিঠি আনতে গেলে শিফট ইনচার্জরা জানান, ঢাকা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তা করা হয়েছে এবং কিছু দিনের মধ্যে তাদের চিঠি দেওয়া হবে। বদলির পর সকল ক্যাম্পাসে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে যেন শিক্ষকরা কোনো রকম প্রতিবাদ করতে না পারেন।
গনবদলির এই মৌখিক আদেশের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তানজিদা খান, তাসলিমা আকতারসহ একাধিক শিক্ষক ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছেন। শিক্ষকরা ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, এ ধরনের নিদের্শ সম্পূর্ণ বেইআইনি। গভর্নিং বডির সভাপতির অনুমতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর ব্যতিত অন্য কোনো ব্যক্তির নির্দেশে কারও স্বাক্ষর বন্ধ হতে পারে না, কোনো বদলিও হতে পারে না।