পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ‘সাইফার’ তথা ‘গোপন কূটনীতিক নথি’ ফাঁসের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। তার সঙ্গে পিটিআইয়ের আরেক নেতা শাহ মেহমুদ কুরেশিকেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এই মামলার অভিযোগের বিষয়বস্তু হচ্ছে, ইমরান খান ওয়াশিংটনের নিযুক্ত ইসলামাবাদের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক সরকারের কাছে পাঠানো গোপন বার্তা প্রকাশ্যে আনেন।
পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এ নিয়ে দ্বিতীয় মামলায় কারাদণ্ডাদেশের সাজা পেলেন। এর আগে দুর্নীতি মামলায় তার সাজা হয়। তবে ওই মামলায় তার সাজা স্থগিত করেছে আদালত। আইনি জটিলতার কারণে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। ইমরানের দল পিটিআইয়ের দলীয় প্রতীক ‘ব্যাট’ বাতিলের রায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পর দলের প্রার্থীরা স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইমরান খানকে পাঞ্জাবের আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রেখে গোপন নথি ফাঁসের মামলার বিচার চলছিল। বিশেষ আদালতের বিচারক আবুল হাসনাত জুলকারনাইন গতকাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় ইমরান ও কুরেশি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সংশোধিত দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনের অধীনে বিশেষ আদালত গঠন করে গত বছর থেকে বিচার চলছিল এই মামলায়। মামলার শুরু থেকে ইমরান ও কুরেশি এতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
গতকাল রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, পিটিআই নেতারা মামলা চলাকালে তাদের আইনজীবী আনেননি এবং এই কারণে রাষ্ট্র তাদের আইনি সহায়তা দিয়েছে।
গত সোমবার আদিয়ালা কারাগারে ইমরান ও কুরেশি মামলার কার্যক্রম চলাকালে হট্টগোল করেন। পরে এ নিয়ে শুনানি মুলতবি করা হয়। এর ঠিক এক দিন পরই রায় ঘোষণা করা হলো। ইমরান ও কুরেশির সাজা ঘোষণা করা হলো এমন এক মুহূর্তে যখন পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের আর মাত্র সপ্তাহখানেক সময় বাকি।
রায় ঘোষণার পর পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি খান দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকতে বলেছেন এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ (রায়) ‘আমাদের মনোযোগকে নির্বাচন থেকে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা। বাইকে ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ওপর নজর রাখতে হবে।’ পিটিআইয়ের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ও সর্বোচ্চ আদালতের ওপর দলের আস্থা রয়েছে।
পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ২০২২ সালে ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কিছুদিন আগে ওই বছরের ২৭ মার্চ একটি জনসভায় ইমরান খান একটি নথি দেখিয়ে অভিযোগ করেন, একটি বিদেশি দেশের মদদে পিটিআই সরকারকে উৎখাত করতে দেশের বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করছে।
এরপর ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান। পরে পিএমএলএন নেতা শেহবাজ শরিফের প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় ইমরানের বিরুদ্ধে গোপন নথি ফাঁসের এই মামলা হয়।
পরে ইমরান ওই গোপন তারবার্তার বিষয়বস্তু নিয়ে অনেকবার কথা বলেন। ইমরান দাবি করে আসছিলেন, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে সামরিক বাহিনী এবং দেশের বিরোধীরা তাকে ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে।