জর্ডানে হামলার জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র, তবে বিস্তৃত যুদ্ধ নয়: বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে জর্ডানে হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহতের জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত বা বৃহত্তর যুদ্ধ চান না বলে জানিয়েছেন তিনি। 

বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন হোয়াইট হাউসে এ মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে জর্ডানে ড্রোন হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাইডেন। বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত বলেননি তিনি।

দুই দিন আগেই সিরিয়ার সীমান্তের কাছে হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ডজনখানেক সেনা আহত হয়েছে। ইতোমধ্যে ইরান সমর্থিত একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে করা ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুদের হামলায় মার্কিন সৈন্য নিহতের ঘটনা এটিই প্রথম।   

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন- আক্রমণের প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? তখন বাইডেন শুধু বলেছেন, ‘হ্যাঁ’। এই হামলার জন্য ইরানকে দোষারোপ করা উচিত কিনা- এমন প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি তাদের (ইরানকে) এই অর্থে দায়ী করি যে, তারা (ইরান) হামলাকারীদের অস্ত্র সরবরাহ করছে।’ তবে ইরান ওই হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।   

এদিকে, হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ধাপে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র একটি নয়, সম্ভাব্য একাধিক পন্থা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখানো হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সেনা এবং আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ওই গোষ্ঠীগুলোর যে ধরণের ক্ষমতা রয়েছে তা হ্রাস করবো। আর প্রেসিডেন্ট আমাদের সেনা এবং আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং আমাদের জাতীয় সুরক্ষার জন্য যা করতে হবে, তা করবেন।’   

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ইরান-মিত্র ঘাঁটি এবং কমান্ডারদের উপর প্রতিশোধমূলক হামলা করাসহ বেশ কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরাক বা সিরিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের সিনিয়র কমান্ডারদেরও টার্গেট করা হতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রশিক্ষিত, অর্থায়ন করা ও সরবরাহকৃত অস্ত্রে সজ্জিত মিলিশিয়ারা আক্রমণ করেছে।