কুমিল্লা দাউদকান্দির গৌরীপুরে পণ্য ওঠানামা বিটে ইজারার নামে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গৌরীপুর-হোমনা সড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী ছোট-বড় ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি থেকে গৌরীপুর বাজার ইজারার টোল আদায়ের নামে এসব চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ বাজারের ব্যবসায়ীদের। উপজেলা প্রশাসন বাজারের বাইরে যানবাহনের ওপর কোনো ধরনের ইজারা প্রদান না করলেও প্রকাশ্যে পণ্য ওঠানামা বিটে ইজারার নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লুটে নিচ্ছে একটি চক্র।
দাউদকান্দি-তিতাস সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আবদুস সবুর নির্বাচনের পরই তার এলাকায় যানবাহনে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দেন। এছাড়া গত ১৮ জানুয়ারি দাউদকান্দি উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায়ও তিনি আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতেও চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। কোনো ধরনের অনুমতি ও ইজারা না থাকার পরও রসিদ ছাপিয়ে পণ্যবোঝাই যানবাহন থেকে চাঁদা তুলছে চক্রটি। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে গত বছর তৎকালীন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিনুল হাসান ইজারাদারকে মৌখিক সতর্ক করেও লাভ হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। চলন্ত যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজি করায় গৌরীপুর-হোমনা সড়কের গৌরীপুর বাজারে নিত্যদিনই যানজট লেগে থাকে। এতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যানবাহনে চাঁদাবাজিতে জড়িতদের প্রধান হচ্ছেন তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের মো. আবদুল্লাহ ও গৌরীপুর বাজার বিটের ইজারাদার আফসার উদ্দিন। গৌরীপুর-হোমনা সড়কের আঙ্গাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে, জনতা ব্যাংকের সামনে, জিয়ারকান্দি সেতুর দুই পাশসহ আরও একাধিক স্থানে পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলি থামিয়ে চাঁদা ওঠানো হয়। আঙ্গাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে রাতদিন দুই শিফটে ৭/৮ জন চাঁদা আদায় করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই সড়কে চলাচলরত পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও ট্রাক থেকে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা করে বাজার ইজারার রসিদ দিয়ে টোলের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়িয়ে পড়ে চাঁদা আদায়কারীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, সংসদ সদস্য চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় তারা অনেক খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু এটার বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা হতাশ। চাঁদাবাজি বন্ধে সাংসদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সুজন নামে এক পিকআপ চালক বলেন, ‘সারা দিন যতবার যাব, ততবারই এই চাঁদা দিতে হয়। আমি কিস্তিতে গাড়িটা কিনে নিজেই চালাই। এভাবে যদি চাঁদাবাজি চলে তাহলে আমরা কার কাছে বিচার চাইব।’
যানবাহন থেকে চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে গৌরীপুর বাজারের ইজারাদার আফসার উদ্দিন বলেন, ‘একটি চক্র বাজার ইজারার নামে অবৈধ রসিদ ছাপিয়ে চাঁদা তুলছে। প্রশাসনকে বলেছি ব্যবস্থা নিতে।’
প্রধান অভিযুক্ত আবদুল্লাহ গৌরীপুর বাজার ইজারার কিছু অংশ সাব-কন্ট্রাক্টে নেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এর পাশাপাশি তিনি মহাসড়ক ও বাইপাস সড়কের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় এই চাঁদাবাজির অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল্লাহ বলেন, ‘ইজারার বাইরে আমরা কোনো টাকা তুলি না।’
গৌরীপুর বাজার কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নোমান মিয়া সরকার বলেন, পণ্যবাহী যানবাহন থেকে মালামাল লোড-আনলোড ছাড়া অন্য যানবাহন থেকে টোল আদায় করা যাবে না। এর বাইরে কেউ টোল আদায় করলে তাকে ধরে পুলিশে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরফাতুল আলম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি গৌরীপুরে যানবাহন থেকে চাঁদা তোলা হয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আবদুস সবুর বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমার নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। গৌরীপুরের বিষয়টি জানলাম, প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’