সারিবদ্ধভাবে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কনেরা। প্রত্যেকের মাথায় ঘোমটা। পরনে গাঢ় কমলা রঙের শাড়ি। জমকালো সাজে বিয়ের আসরে হাজির হয়েছেন তারা। কিন্তু বরের দেখা নেই। কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল, কনেরা নিজেরাই নিজেদের গলায় মালা পরিয়ে দিচ্ছেন। গণবিবাহের আসরে বর ছাড়াই সম্পন্ন হচ্ছে বিয়ে।
ঘটনাটি ভারতের উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার বলে জানা গেছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে। সমাজ উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে মানিয়ার ইন্টারকলেজ চত্বরে গত ২৫ জানুয়ারি গণবিবাহের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখান থেকেই একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গণবিবাহে বর ছাড়াই বিয়ে হতে দেখা গিয়েছে ওই ভিডিওতে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকারি টাকা পাওয়ার লোভে ভুয়া গণবিবাহের আয়োজন করা হয়েছিল। কারও বিয়ে হয়নি সেখানে। মহিলারা ঘোমটা দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নিজেদের গলায় নিজেরাই মালা পরিয়েছেন। মহিলাদের ভিড়ে অনেক পুরুষও ছিলেন শাড়ি পরে, অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গণবিবাহের আসরে ৫৬৮ জন যুগলের নাম বিয়ের জন্য নথিভুক্ত করা হয়েছিল। গণবিবাহের জন্য সরকারের তরফে প্রতি যুগলের বরাদ্দ ছিল ৫১ হাজার টাকা। বিয়ে করলেই ওই টাকা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছিল। তার মধ্যে ৩৫ হাজার টাকা সরাসরি ঢোকার কথা ছিল কনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এ ছাড়া, ১০ হাজার টাকার উপহার ও বর, কনের প্রাপ্য হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই টাকা এবং উপহার নিতেই ভুয়া গণবিবাহের আসর আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ।
প্রশাসনের তরফে তদন্তের পর আট জন মহিলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে মানিয়ার থানায়। সেই সঙ্গে এফআইআর হয়েছে অ্যাডিশনাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার সুনীর কুমার যাদবের বিরুদ্ধেও। সরকারি কর্মকর্তা এই ভুয়া আয়োজনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।