মিয়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যেই এক স্কুলে বোমা হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। এতে করে হামলায় অন্তত চার শিশু নিহত এবং ১০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম ইরাবতী।
ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার কারেনি (কায়া) রাজ্যের ডেমোসো টাউনশিপের একটি স্কুলে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর যুদ্ধ বিমান দ্বারা হামলা চালায়। এতে অন্তত চার শিশু নিহত এবং ১০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টার দিকে ডাউসি গ্রামের স্কুলে দুটি যুদ্ধবিমান দুটি বোমা ফেলে এবং মেশিনগান দ্বারা গুলিবর্ষণ করে বলে জানায় ডেমোসোর একজন স্বেচ্ছাসেবক।
ওই এলাকায় জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে কোনো সংঘর্ষ না হওয়া সত্ত্বেও এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ওই স্বেচ্ছাসেবক।
ডাউসি গ্রামটি ডেমোসো শহরের প্রায় ১০ মাইল পশ্চিমে কারেনি রাজ্যের রাজধানী লোইকাও যাওয়ার রাস্তায় অবস্থিত। এই গ্রামটি এখন আংশিকভাবে কারেনি ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের (কেএনডিএফ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই গ্রামটিতে মূলত বাস্তুচ্যুত লোকরা আশ্রয় নিয়েছিল এবং স্কুলটিতে স্থানীয় এবং বাস্তুচ্যুত উভয় শিশুই পড়াশুনা করত।
তবে বোমা হামলায় স্কুলের ৯০ শতাংশ ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হামলায় আহত অনেক শিশুর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ডেমোসোর স্বেচ্ছাসেবক।
তিনি জানান, স্কুলটিতে কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পড়ে। জান্তা বিমান হামলা এবং গোলাগুলি থেকে স্কুল কম্পাউন্ডে আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও হঠাৎ করে হামলাটি হওয়ায় কেউই আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।
জান্তার যুদ্ধবিমানগুলো পার্শ্ববর্তী ডেমোসো গ্রামেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে ইরাবতী। তবে সে হামলায় হতাহতের পরিসংখ্যান এখনও জানা যায়নি।
কারেনি হিউম্যান রাইটস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, জান্তা গত বছর কারেনি রাজ্যে ১৬০টিরও বেশি আর্টিলারি স্ট্রাইক এবং ৭৬টি বিমান হামলা চালায়, যার ফলে ১৮০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে এবং ১৪০ জন আহত হয়।