সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই মূল্যস্ফীতি কমানোকে প্রধান কাজ হিসেবে নিয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযানও করছে। তবে যে হারে জরিমানা করা হচ্ছে, তা নামমাত্র। কোনো প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ও কোথাও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেই কাজ সারছে মন্ত্রণালয়। এতে মজুদবিরোধী অভিযানই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। প্রভাব পড়ছে না ভোক্তাবাজারে। পণ্যের দাম এখনো আকাশছোঁয়া।
গতকাল ঢাকাসহ সারা দেশে মজুদবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। অভিযানে অবৈধভাবে ধান-চাল মজুদের অপরাধে ৮ বিভাগের ৩২১ প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলায় ৩৬টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চাল ও ধানের অবৈধ মজুদ থাকায় এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ৩০ হাজার, ঢাকা জেলার ২১ প্রতিষ্ঠানকে ৬১ হাজার ও মাদারীপুরের ২ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজারসহ ৯৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগের যশোর, কুষ্টিয়া ও মাগুরায় ২৮ প্রতিষ্ঠানকে সব থেকে বেশি ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে যশোর জেলার ১৩ প্রতিষ্ঠানকে এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করায় ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার খাদ্য অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ যৌথ উদ্যোগে মজুদবিরোধী অভিযানে ৭ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার আইনে মাত্র ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২২২ প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে চালের অস্বাভাবিক মজুদ থাকায় দিনাজপুরের ১০২ প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অবৈধ মজুদ প্রতিরোধ টিম।
একই সময় অবৈধ মজুদবিরোধী অভিযানে মিলগেট থেকে খুচরাপর্যায়ে চালের দাম কমেছে বলে দাবি করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কৃষিপণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে কাজ করছি। অসৎ ব্যবসায়ীদের কারণে কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।’