জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ও পলায়নে সহযোগিতাকারীদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং মীর মশাররফ হোসেন হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করাসহ ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়, যা মূল সড়ক দিয়ে নতুন কলা ভবন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ঘুরে ছাত্রীদের হলের সামনে দিয়ে চৌরঙ্গী হয়ে আবার পরিবহন চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিক্ষোভ শেষে সেখানে একটি সমাবেশ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অন্য দুটি দাবি হলো: সকল আবাসিক হল থেকে অছাত্রদের বের করা এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা শাখার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করা।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোমা ডুমরি বলেন, জাহাঙ্গীরনগরের মতো একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস ধর্ষণের মতো ঘটনা কলঙ্কজনক। একজন অছাত্র কীভাবে এমন কাজ করার সাহস পেতে পারে। নিশ্চয় এর পেছনে কোনো মদদদাতা আছে। আমি চাই এদের শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করা হোক। জাহাঙ্গীরনগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হোক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিহা জামান নিকি বলেন, আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় আইনে ধর্ষণে অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল রয়েছে সেটি পুনরায় চালু করা হোক। তদন্ত সাপেক্ষে প্রক্টর ও অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মায়মুনা বলেন, আমরা দেখেছি কিভাবে গণরুমে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপসংস্কৃতি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এই গণরুম তৈরির মূল কারণ হলে অছাত্রদের অবস্থান। এই অছাত্রদের দ্রুত বের করে দিতে হবে। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো বিচার বিশ্লেষণ করে বিচার কার্যকর করতে হবে।