দূতকে তলব করে প্রতিবাদ আরও আশ্রয় প্রার্থী

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) বিরতিহীন লড়াইয়ের আঁচে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের দিন কাটছে ভয়াবহ আতঙ্কে। দিন-রাত গুলি, গ্রেনেড, বোমা ও মর্টারের শব্দে প্রকম্পিত হচ্ছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো। তাদের ছোড়া গুলি, মর্টার শেল, বোমা এসে পড়ছে বাংলাদেশেও। সোমবার ছুটে আসা মর্টার শেলের আঘাতে দুজনের মৃত্যুর পর গতকাল মঙ্গলবার আরও একটি মর্টার শেল এসে পড়ে একটি বাড়িতে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও গতকাল কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জীবন বাঁচাতে ইতিমধ্যে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে গত সোমবার রাত পর্যন্ত ১১৫ জন এবং গতকাল মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) আরও ১৪৯ সদস্য বাংলাদেশে ঢুকে আশ্রয় চেয়েছে। এ নিয়ে দুদিনে মিয়ানমারের ২৬৪ সীমান্তরক্ষী বাংলাদেশে ঢুকে অশ্রয় চেয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এ ছাড়া নৌকায় ৬৫ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করলে তাদের পুশব্যাকের চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ওপারের সংঘাতে এপারের লোকজনের ভয় ও আতঙ্ক বেড়েছে। গতকাল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন ও কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউপির সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, সীমান্তে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হেলিকপ্টারে গুলিবর্ষণ, মর্টার শেল নিক্ষেপ, গ্রেনেড, বোমা বিস্ফোরণসহ গুলি চলছিল। দুপুরের পর একটু কমলেও কিছুক্ষণ পরপরই বিকট শব্দের পাশাপাশি মিয়ানমারের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

অন্যদিকে সকাল থেকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতবিলসংলগ্ন মিয়ানমারের ভেতরে গ্রেনেড, বোমা হামলাসহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিজিপিসহ মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সদস্যরা এপারে প্রবেশের চেষ্টা করে। গতকাল এক দিনেই সংঘর্ষে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে ১৪৯ জন বিজিপি সদস্য। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠনের ২৩ জনকে ধরে গ্রামবাসী। এ ছাড়া নিজ বাড়ি ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে তিন শতাধিক পরিবার।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব : সীমান্তের ওপারে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত সোমবার সীমান্তের ওপার থেকে ছুটে আসার মর্টার শেলের আঘাতে বাংলাদেশে দুজন নিহত এবং সীমান্ত এলাকায় সর্বশেষ ওই সহিংসতা-সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে ঢাকা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিয়াও মো-কে তলব করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার শাখার মহাপরিচালক মিয়া মো. মইনুল কবির রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা সীমান্তের এপারে বাংলাদেশে এসে পড়ায়, বিশেষত ওই সহিংসতায় কক্সবাজারে দুজনের মৃত্যু ঘটায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’

পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের দিকে সশস্ত্র সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে হতাহতের ঘটনা ও বিশৃঙ্খলার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি তীব্র প্রতিবাদবার্তা হস্তান্তর করা হয়েছে। মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমরা তাকে জানিয়েছি, এটা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।’

কর্মকর্তারা বলেছেন, রাষ্ট্রদূত তার সরকারকে বাংলাদেশের প্রতিবাদ সম্পর্কে অবগত করবেন বলে ঢাকাকে আশ্বাস দিয়েছেন।

জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছাড়ছে সীমান্তবাসী : গতকাল বিকেল ৪টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানই বন্ধ। মানুষজনও তেমন নেই। একটু দূরে বিছানা-বালিশ ইজিবাইকের ছাদে তুলছেন একই বাজারের কোনাপাড়ার শামীম হোসেন। আর তাকে সহযোগিতা করছেন চালক ইয়াসিন (২৫)। এই ইজিবাইকের কাছেই অপেক্ষা করছেন সন্তান কোলে ইয়াসমিন নামের এক নারী। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ননদ খুশবু আকতার।

এ সময় শামীম হোসেন বলেন, ‘সীমান্তে কেউ নিরাপদ নয়। তাই পরিবারের সদস্যদের উখিয়ার এক স্বজনের বাড়িতে গিয়ে রেখে আসব। আর বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য আমি থাকব।’

শামীম হোসেনের কথা শেষ হতে না হতেই আরও তিনটি ইজিবাইক প্রতিবেদককে অতিক্রম করে যায়। ওখানে যাত্রী হিসেবে দেখা গেছে শিশুসহ নারীদের। সঙ্গে রয়েছে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। তাদের বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, ‘ওরা আমার প্রতিবেশী। জীবন বাঁচাতে দূরে চলে যাচ্ছে।’

শুধু শামীম কিংবা ওই তিন প্রতিবেশী নন, তিন দিন ধরে ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু বাজারসংলগ্ন প্রায় ১০-১২টি গ্রামসহ সীমান্তবর্তী এই ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ অন্যত্র চলে গেছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা তিন দিন ধরে সীমান্তবাসীকে নিরাপদে সরে যাওয়া অনুরোধ করেছি। আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ঘুমধুম ইউনিয়নে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী ২৪০ পরিবারের মধ্যে প্রায় ১৫০ পরিবার নিরাপদ স্থানে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এই ইউনিয়নের জলপাইতলী গ্রামে সীমান্ত ঘেঁষে ৪০-৪৫টি পরিবার বসবাস করে। তাদের মধ্যে ৩০টি পরিবার অন্যত্র সরে গেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, যারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে, তাদের পরিবারের এক বা একাধিক বয়স্ক ঘরবাড়ির ও গবাদি পশুর স্বার্থে বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘ঘুমধুম পরিস্থিতি গতকালের চেয়ে আজ (গতকাল) একটু ভালো। আশা করছি দ্রুত সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আশ্রয়কেন্দ্র খুলে রেখেছি। আমি করজোড়ে সীমান্তবাসীকে অনুরোধ করব আর কয়েকটা দিনের জন্য আপনারা নিরাপদ স্থানে সরে যান, নতুবা আশ্রয়কেন্দ্রে উঠুন।’

এদিকে ঘুমধুমের ইউনিয়নের লোকজন যেমন নিরাপদে সরে যাচ্ছে, এমন চিত্র উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্তবর্তী প্রায়ই গ্রামের। তবে কক্সবাজারে প্রশাসন তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে পালংখালীর বাসিন্দা কক্সবাজারের সিনিয়র আইনজীবী আবদুল মান্নান বলেন, প্রশাসন থেকে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। তবে যেভাবে ঘরবাড়িতে ওপারের বুলেট, গ্রেনেড ও গুলি এসে পড়ছে, তাতে এখানে থাকা বিপজ্জনক।

একই ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, প্রশাসন সীমান্তবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে যাদের অন্যত্র থাকার সুযোগ ও সামর্থ্য রয়েছে, তারা সীমান্তে বসবাস ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।

উখিয়ার নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসাইন বলেন, ‘আমরা এখনো কাউকে সরানোর উদ্যোগ নিইনি। তবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছি।’

হোসনে আরার বাড়িতে শোকের মাতম : ‘আঁই মা হারে ডাইক্কুম। ঘরত থাহিয়েরেও তুই মরি গেলিগই মা।’ রান্নাঘরের খুঁটি ধরে কান্না করতে করতে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে মূর্ছা যান রবিবার মিয়ানমার জান্তা সরকারের সেনাবাহিনীর ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে নিহত বাংলাদেশি হোসনে আরার ছোট ছেলে মো. ইব্রাহিম (২১)। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেতবুনিয়া সীমান্তসংলগ্ন জলপাইতলী গ্রামে বাদশা মিয়ার বসতঘরে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর (আইসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন বলেন, ‘নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে আমি তাদের বাড়ি গিয়েছি। আপাতত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে তাদের।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকালই এ ঘটনার বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

আগ্নেয়াস্ত্রসহ মিয়ানমারের ২৩ উগ্রপন্থিকে ধরল গ্রামবাসী : সীমান্ত পেরিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে পড়ে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি সংগঠনের অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী। পরে তাদের ধাওয়া করে গ্রামবাসী। তখন গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। তবু গ্রামবাসী পিছু না হটে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২৩ সন্ত্রাসীকে আটক করে। গতকাল দুপুর দেড়টায় কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রহমতের বিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, গ্রামবাসীর সহযোগিতায় মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের ২৩ জনকে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। তবে তারা কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত এখনো জানা যায়নি।

উখিয়া থানার ওসি মো. শামীম হোসেন বলেন, সেই ২৩ জন এখনো পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদে রয়েছে। তাদের কাছ থেকে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

সীমান্তে এক দিনে ৫ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ : মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে গতকাল আরও পাঁচ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ও থাইংখালী এলাকায় চারজন এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে একজন গুলিবিদ্ধ হন। কক্সবাজারের আহতরা হলেন পালংখালী ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকার আয়ুবুল ইসলাম, রহমতেরবিল এলাকার আনোয়ার হোসেন, পুটিবনিয়া এলাকার মোবারক হোসেন ও মো. কালা।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চারজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে আনোয়ার ও মোবারকের অবস্থা গুরুতর।

আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে বান্দরবান জেলা প্রশাসক : ঝুঁকিপূর্ণভাবে সীমান্তে বসবাসরত ঘুমধুমবাসীর জন্য দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে বান্দরবানের জেলা প্রশাসন। আর সীমান্তবাসীকে সেখানে যেতে অনুরোধ করেছে জেলা প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্র দুটি হলো ১ নম্বর উত্তর ঘুমধুম প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কচুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে কচুবুনিয়ায় এখনো কোনো পরিবার যায়নি। তবে উত্তর ঘুমধুমের আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

তিন দিনে আশ্রয় নিল ২৬৪ বিজিপি : নিজ দেশের বিদ্রোহীদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচাতে গেল তিন দিনের মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ২৬৪ জন সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যার দিকে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত তিন দিন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন ২৬৪ জন বিজিপি সদস্য। এর মধ্যে গতকাল এক দিনে উখিয়া পালংখালী ইউপির রহমতবিলসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এ দেশে ঢুকেছে ১৬৩ জন। সবাইকে নিরস্ত্রকরণ নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ দেশে মিয়ানমার বিজিপি ২৬৪ সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন।

এরা সবাই বিজিপি সদস্য কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক বলেন, ‘ভাষা সমস্যাসহ নানা সমস্যার কারণে আমরা পরিপূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে যেটুকু তথ্য সংগ্রহ করেছি, তাতে সবাই মিয়ানমারের বর্ডার পুলিশ সঙ্গে যুক্ত।’

ঝুঁকি নিয়ে নিজ বাড়িতে শতাধিক পরিবার : বান্দরবানের জেলা প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে ঝুঁকি জেনেও ঘুমধুম ইউনিয়নের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার নিজ বাড়িতেই থেকে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রুর কোনারপাড়া, দক্ষিণপাড়া, মাঝেরপাড়া, পশ্চিমপাড়া, বেতবুনিয়া, জলপাইতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ। এসব গ্রামে ২৯৫টি পরিবার বসবাস করে। তাদের মধ্যে ১৮৫টির মতো নিরাপদ স্থানে সরে গেলেও অন্যরা থেকে গেছে।

আরও দুটি সেনা ঘাঁটি দখলে : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নৃ-তাত্ত্বিক সশস্ত্র সংগঠন (ইএও) আরাকান আর্মি (এএ) সোমবার রাজ্যটির আরও দুটি সেনাঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। এর মধ্যে একটি কিয়াকতাউয়ে এবং আরেকটি ম্রাউক-ইউ অঞ্চলে। এর ফলে রাখাইনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হলো। থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য দিয়েছে। রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী অংশে কয়েক দিন ধরে অস্থিরতা বেশ বেড়েছে।

আরাকান আর্মিসহ মিয়ানমারের আরও দুটি ইএও মিলে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স গঠন করে। গত অক্টোবর থেকে তারা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ক্রমাগত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আক্রমণে গত বছরের শেষদিক থেকে ব্যাপকভাবে পর্যুদস্ত হচ্ছে জান্তার অনুগত সেনারা। সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, আরাকান যোদ্ধারা জান্তার নবম মিলিটারি অপারেশন কমান্ডের (এমওসি-৯) আওতাধীন ৩৭৬তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন দখল করেছে। আবার এমরসি-৯-এর আওতাধীন ৩৭৮তম ব্যাটালিয়নও দখল করেছে আরাকান যোদ্ধারা।

বেসামরিকদের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯ দেশের : মিয়ানমারে বেসামরিক লোকজনদের ওপর হামলা বন্ধ এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে দেশটির জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৯ সদস্য দেশ। গত সোমবার মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আগে এক বিবৃতি দিয়ে এ আহ্বান জানায় দেশগুলো। যাদের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, 
স্লোভেনিয়া, সুইজারল্যান্ড, ইকুয়েডর ও মালটা। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৫ সদস্য দেশ রয়েছে। জান্তার প্রতি আহ্বান জানানো থেকে বিরত ছিল স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন।

৯ দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্বিচার বিমান হামলাসহ চলমান সংঘাতে বেসামরিক মানুষের যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। নিরাপত্তা পরিষদের ২৬৬৯ রেজল্যুশন অনুযায়ী, আমরা সব ধরনের সংঘাত অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।’