শাহজালাল বিমানবন্দর

দিনে শতকোটি টাকার ডলার অবৈধ বেচাকেনা

বিদেশ থেকে ফেরত প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে আনা বৈদেশিক মুদ্রা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যাংকের ভুয়া রসিদ দিয়ে কম দামে ক্রয় করত একটি জালিয়াত চক্র। পরে এসব মুদ্রা ব্যাংকে জমা না করে অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিত। এভাবে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যার একটি বড় অংশই হাত বদলে হয়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক বলছে, দেশের সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সাতটি ব্যাংক ও দুটি মানি এক্সচেঞ্জের কিছু কর্মকর্তা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কমিশন ঘটনাটি ব্যাপকভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিমানবন্দরের বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দরে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে বৈদেশিক মুদ্রার কালোবাজারি, বিমানবন্দরের জড়িত ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। এ চক্রটি প্রতিদিন হাজার-হাজার প্রবাসীসহ বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের সঙ্গে আনা বৈদেশিক মুদ্রা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিমানবন্দরে থাকা ব্যাংকের বুথ ও মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করে। আইন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় রূপান্তরের সময় সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে ভাউচার দিতে হয়। কিন্তু সেখানকার ব্যাংক কর্মকর্তা ও মানি এক্সচেঞ্জের মালিকরা জাল ভাউচার দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ করেন। এসব মুদ্রা ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জের রেজিস্ট্রার অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ফলে এসব মুদ্রা দেশের কেন্দ্রীয় রিজার্ভে যুক্ত হয় না। যার ফলে বাংলাদেশে বিদেশি মুদ্রার ঘাটতি সৃষ্টি হয়।

অভিযানের বিষয়ে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, প্রবাসী ওয়েজ আর্নার্স ও বিমানের যাত্রীরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মূল্যবান যে রেমিট্যান্স নগদ ও বৈদেশিক মুদ্রায় আনয়ন করেন তা ব্যাংকিং চ্যানেলে রাষ্ট্রীয় রিজার্ভে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা ব্যাংকের টাকা ব্যবহার করে তা ব্যাংকিং চ্যানেলে সংগৃহীত না দেখিয়ে নিজেরাই ক্রয়-পূর্বক মার্কেট বিক্রয় করে দেন, যা পরবর্তীকালে মানিং লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আবার বিদেশে পাচার হয়ে যায়।

মাহবুব হোসেন বলেন, দুদকের অভিযানকালে দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং খাতে যুক্ত হয় না। বিমানবন্দর অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় ক্রয়-বিক্রয় ও মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জনতা, সোনালী, অগ্রণী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, পূবালী, প্রবাসী কল্যাণ ও যমুনা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া এভিয়া মানি এক্সচেঞ্জ ও ইমপেরিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদক সচিব বলেন, দুদকের টিম অভিযানকালে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জের মুদ্রা রূপান্তর ভুয়া ভাউচার, স্বাক্ষরবিহীন ভাউচারসহ অন্যান্য নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়, পাচার ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করেছে। সন্দেহভাজন ও জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুদকের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশন আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যব্যস্থা গ্রহণ করা হবে।