দ্বাদশ সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে আগামী ১৪ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের ২৭তম সভা শেষে তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিব জাহাংগীর আলম। এদিন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে। মে মাসে মোট চার ধাপে ভোটগ্রহণ হবে।
ইসি সচিব জাহাংগীর বলেন, কমিশনের ২৭তম সভা হলো। সেখানে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করেছে কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নমিনেশন পেপার জমা দেওয়া যাবে। নমিনেশন পেপার যাচাই-বাছাই হবে ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি। যাচাই-বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২২ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৫ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর ভোটগ্রহণ হবে ১৪ মার্চ।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ৫০টি। নির্বাচনে জোটসহ ২২৫টি আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। সে হিসাবে আনুপাতিক হারে ৩৮টি সংরক্ষিত আসন ভাগে পায় তারা। অন্যদিকে ৬২ স্বতন্ত্র এমপি তাদের ভাগের ১০ আসন আওয়ামী লীগের কাছে সমর্পণ করেছেন। আওয়ামী লীগ যে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে, তাদের সমর্থন দেবেন তারা, এমন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। ফলে ৫০ আসনে ৪৮টি যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘরে। বাকি দুটি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।
ইসি সচিব জানান, বৈঠক থেকে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে। মোট চার ধাপে ভোটগ্রহণ হবে। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট হবে ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ১১ মে, তৃতীয় ধাপের ভোট হবে ১৮ মে এবং চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ২৫ মে।
তিনি বলেন, বিস্তারিত তফসিল ও কোন ধাপে কোন কোন উপজেলায় ভোট হবে তা আগামী সপ্তাহে জানানো হবে।
সারা দেশে উপজেলা পরিষদ আছে ৪৯৫টি। সাধারণত সব উপজেলায় একসঙ্গে নির্বাচন করা হয় না। একাধিক ধাপে এই নির্বাচন করা হয়। এবারও ধাপে ধাপে নির্বাচন করা হবে। আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের মেয়াদ পূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। এখন ৪৫২টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। জুনের মধ্যে এসব উপজেলায় নির্বাচন করতে হবে। মার্চের মধ্যে অল্প কিছু বাদে প্রায় সব কটি উপজেলাই নির্বাচন উপযোগী হবে।