গ্যাস না পেয়ে বন উজাড় করছে পাকিস্তানিরা

জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান নগরায়ন ও গ্যাসের মতো জ্বালানি ঘাটতির কারণে গত দুই যুগে ২০ শতাংশ বনভূমি হারিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসের (পিআইডিই) সাম্প্রতিক গবেষণার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউজ।

পিআইডিই আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানে বছরে প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর বন উজাড় হচ্ছে, যার অর্ধেক হয় জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে গিয়ে। সেখানে বেশিরভাগ পরিবার রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে গ্যাস ব্যবহার করতে পারে না। আবার দেশটিতে বনায়নের হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় বনভূমিতে ব্যক্তিগত মালিকানার হার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে, যথাক্রমে ৩৬ ও ৩৪ শতাংশ।

অপরদিকে লাহোর ও ইসলামাবাদের মতো শহরগুলোয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্যক্তিগত চলাচলের জন্য বড় বড় সড়ক কাঠামো নির্মাণের ফলে বনভূমির ক্ষতি হয়েছে। ফলে ১০০ কোটিরও কম গাছ আছে বিশ্বের এমন দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম।

গবেষণায় বলা হয়েছে, পাকিস্তানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গাছ আছে এক হাজার ১৩১টি। জনপ্রতি আছে মাত্র পাঁচটি, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য যথাযথ নয়, যেখানে জনপ্রতি ৯০০ গাছ প্রয়োজন। ২০০০ সাল থেকে পাকিস্তানে বনভূমি কমছে। ২০২১ সালে দেশটির মোট ভূমির মধ্যে মাত্র ৪.৮ শতাংশ বনভূমি ছিল, যা দুই যুগ আগে ছিল ৫.৯ শতাংশ।

একইসঙ্গে পাকিস্তানের বনভূমি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত (২৪.৪ শতাংশ) ও বাংলাদেশের (১৪.৫ শতাংশ) চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। পিআইডিইর গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য একটি দেশে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত।