পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে প্রায় ১৩ ঘণ্টার পর আজ শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা শুরু করে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)।
বাংলাদেশের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘোষিত ফলে দেখা গেছে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। আইনি প্রতিবন্ধকতার কারণে পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত বার্তা সংস্থা রয়টার্স মোট ১০৬টি আসনে চূড়ান্ত ফলাফল জানিয়েছে। এর মধ্যে ইমরান খানের পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা জিতেছে ৪৭টি আসনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ২টা পর্যন্ত দেশটির নির্বাচন কমিশন মোট ৭০টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ইমরান খানের পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা জিতেছে ২৪টি আসনে। নওয়াজের দল পিএমএল-এন ১৭টি আসনে জয় পেয়েছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ২৪টি আসনে জয় পেয়েছে। বাকি আসন জয় পেয়েছে অন্যান্য দল।
অন্যদিকে পাকিস্তানের জিও নিউজের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সময় ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মোট ১৩১টি আসনের ফলাফল জানায়। এর মধ্যে ৫৮টি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যার বেশির ভাগই ইমরান খানের দল পিটিআইন সমর্থিত প্রার্থী। নওয়াজের দল ৪২টি আসনে জয় পেয়েছেন। এছাড়া বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পিপিপি ৩১টি আসনে জয় পেয়েছে।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় আড়াইটা পর্যন্ত মোট ৪৬টি আসনের ফল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)–সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছে ১৫টি আসনে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ১৩টি আসনে জয় পেয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)১৫টি আসনে জয় পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে জয় পেয়েছেন। অন্যান্য দল তিনটি আসনে জয় পেয়েছে।
ডনের খবরে বলা হয়েছে, কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন করতে চাইলে এবার ১৩৪টি আসনে জিততে হবে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানে এবার কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে।
পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। নির্বাচনের আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক প্রার্থী নিহত হওয়ায় একটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছিল আগেই। তাই গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট হয়েছে ২৬৫ আসনে।
পাকিস্তানে গতকাল বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।মোবাইল ফোন সংযোগ স্থগিত ও সহিংসতার কারণে নির্বাচন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এরপর ফল ঘোষণায়ও ধীরগতি দেখা যায়। এ অবস্থায় নির্বাচনে অযোগ্য ও কারাগারে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই বলছে, ফল প্রকাশে এই বিলম্ব ভোট কারচুপির লক্ষণ।