ভারতের রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’ আবার সংকটে পড়েছে। বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল (জেডিইউ) বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এবার উত্তর প্রদেশভিত্তিক রাষ্ট্রীয় লোকদল (আরএলডি) বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে বিজেপির যেখানে পৌষ মাস, সেখানে কংগ্রেসের যেন সর্বনাশ।
গত জুন মাসে বিহারের পাটনায় নিতিশ কুমারের ডাকা ইনডিয়া বৈঠকে ‘বিশেষ কারণ’ দেখিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রীয় লোকদল (আরএলডি) প্রধান জয়ন্ত চৌধরী। এবার তিনি বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সে (এনডিএ) যোগ দিচ্ছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবরই আসছে। জয়ন্ত হলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী চরণ সিংহের নাতি এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজিত সিংহের ছেলে।
উত্তর প্রদেশে বিজেপির জোটসঙ্গী ‘সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি’র (এসবিএসপি) প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর গতকাল শুক্রবার দাবি করেন, আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ জোট শামিল হবে। সূত্র জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের জাঠ সম্প্রদায়ের এই নেতাকে তিনটি আসনে ছাড় দিতে পারে বিজেপি।
২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি এবং মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টির (বিএসপি) সঙ্গে জোট বেঁধে তিনটি আসনে লড়েছিল আরএলডি। কিন্তু একটিতেও জিততে পারেনি। জয়ন্ত নিজে মথুরায় বিজেপির প্রার্থী বলিউড তারকা হেমা মালিনীর কাছে হেরে যান। অবশ্য জয়ন্ত পরে সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে রাজ্যসভায় জিতে আসেন। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অখিলেশের দলের সঙ্গে জোট করে ৩৩টি আসনে লড়াই করে ৯টিতে জয় পায় আরএলডি।
শোনা যাচ্ছে, আসন্ন লোকসভা ভোটে জয়ন্তকে সাতটি আসন ছাড়তে চেয়েছিলেন অখিলেশ। রাজনৈতিক মহলের খবর, এনডিএ শিবির থেকে তার কম আসন ছাড়ার বার্তা পেলেও ‘জয়ের সম্ভাবনা’ যাচাই করে এবং ভোটের পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের আশ্বাসে বিজেপির হাত ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আবার উত্তর প্রদেশে জাঠ সম্প্রদায়ের ভোটের অঙ্ক কষেই বিজেপি নেতৃত্ব জয়ন্তকে এনডিএ আনতে সক্রিয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারাণা। বিজেপি-আরএলডি জোট হলে জাঠ ভোটের সিংহভাগ পাবে এনডিএ।