‘নেতানিয়াহু গ্রেপ্তার হবেন না’

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘কোনোভাবেই’ গ্রেপ্তার করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, স্থানীয় আইনি ক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে আসবেন নেতানিয়াহু। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আইসিসির পরোয়ানার আলোকে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্যের পর ট্রাম্প নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন; যদিও নিজের পোস্টে মামদানির নাম উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই আইসিসির এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের পডকাস্ট ‘দ্য ইন্টারভিউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোহরান মামদানি বলেন, তার বিশ্বাস, নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে অভিযুক্ত করেছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগ সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ পর্যালোচনা করছে। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্ব নেতারা নিউইয়র্কে জড়ো হন। ওই অধিবেশনে সাধারণত নেতানিয়াহুও যোগ দিয়ে থাকেন।

মামদানির মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আইসিসিকে ‘প্রহসনের আদালত’ বলে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘ভুয়া’ দাবি করে মামদানির বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার পরিচালনা করে এই আদালত। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয় এবং এই আদালতের রায়কে তারা স্বীকৃতি দেয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত