বার্নহ্যামের নতুন মন্ত্রিসভায় চমক

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের ওপর আস্থা রেখে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন এনেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া। বার্নহ্যামের নতুন মন্ত্রিসভায় ফিরেছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। গত মে মাসে স্টারমারের ওপর তার আস্থা হারিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়েছিলেন তিনি। তবে সবচেয়ে আলোচিত নিয়োগ হয়েছে জন হিলিকে অর্থমন্ত্রী করা। স্টারমার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তিনি। গত মাসে প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে টনি ব্লেয়ারের সরকারের সময়ে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রী ও আর্থিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার দেশের অর্থনীতি, বাজেট ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তার হাতে তুলে দিয়েছেন বার্নহ্যাম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে এড মিলিব্যান্ডকে। সাবেক লেবার নেতা মিলিব্যান্ড স্টারমার সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শাবানা মাহমুদকে বহাল রাখা হয়েছে। অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবামন্ত্রী হয়েছেন ইভেট কুপার। স্টারমার সরকারের শেষ দিকে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) খাতের সংকট মোকাবিলা তার প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে। আবাসন ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক দায়িত্বে ফিরেছেন অ্যাঞ্জেলা রেইনার।

এদিকে, প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) বিষয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেয়েছে যুক্তরাজ্য। আর সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেবার এমপি কণিষ্ক নারায়ণকে। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তার নতুন মন্ত্রিসভায় এআই ও ডিজিটাল নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে এআই মন্ত্রীর পদটিকে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাবিনেট মন্ত্রীর’ মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। এর আগে কণিষ্ক প্রযুক্তি বিভাগের একজন জুনিয়র মন্ত্রী ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত