মর্টার শেল নিষ্ক্রিয়ের সময় ওপার থেকে গুলি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের নয়াপাড়া বিলে পাওয়া মর্টার শেলটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এ সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় করার পর ওপারে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ অংশে লক্ষ্য করে বেশ কিছুক্ষণ গুলি ছোড়া হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমধুমের নয়াপড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিজিবির ২০-২৫ জনের একটি দল মিয়ানমার থেকে আসা অবিস্ফোরিত মর্টার শেলটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে। এর কয়েক মিনিট পর মিয়ানমারের ভেতর থেকে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এপার একের পর এক গুলি আসতে থাকে। এ সময় সবাই দিগবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। কেউ কেউ মাটিতে শুয়ে পড়ে। গুলি থামলে পরে সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা বিজিবির কক্সবাজার অঞ্চলের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হচ্ছে। এর জের ধরে এপারে গুলি এসে পড়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের নয়াপাড়া সীমান্ত এলাকার একটি বিলে মর্টার শেলটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমারের ভেতরে দেশটির জান্তা সরকারের বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী সংগঠনের গোলাগুলির শব্দ গতকাল দিনে শোনা যায়নি। কিন্তু আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত কক্সবাজারের টেকনাফের জিম্বংখালী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে টেকনাফের সীমান্ত এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু-ঘুমধুম সীমান্ত এবং কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল এলাকা শান্ত ছিল।

স্থানীয় লোকজন জানায়, বিজিবির জিম্বংখালী বিওপির বিপরীতে অন্তত দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের জিবিং অং এবং হারিংগাচরের মারিক্কমপাড়া এলাকায় এসব বিস্ফোরণ হয়। সেখানে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে আরাকান আর্মির সদস্যদের তুমুল সংঘর্ষ হচ্ছে বলে ধারণা করছে তারা।

উনচিপ্রাং এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, ‘মধ্যরাতে হঠাৎ গুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের কারণে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি।’ টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ‘হোয়াইক্যংয়ের উনচিপ্রাং সীমান্তের ওপারে রাতে গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দ শোনা গেছে। এতে সীমান্তের পাশের গ্রামগুলো কেঁপে ওঠে।’

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, হ্নীলার কাস্টমস সীমান্তে ব্যাপক মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আশপাশের গ্রামগুলো কেঁপে ওঠে।

সেই ২৩ উগ্রপন্থীর বিরুদ্ধে মামলা করল বিজিবি : মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বাংলাদেশের গ্রামে ঢুকে পড়া মিয়ানমারের ২৩ উগ্রপন্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিজিবি। গতকাল কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলাটি করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে রহমতের বিল গ্রামে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল মিয়ানমারের অস্ত্রধারী কিছু উগ্রপন্থী। তখন তাদের ধাওয়া করে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ২৩ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তুলে দেয় গ্রামবাসী। তাদের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য নিশ্চিত করেন বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মেহেদী হাসান।

উখিয়া থানার ওসি শামীম হোসেন বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অস্ত্র আইনে বিজিবির করা এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।’

ধানক্ষেতে মিলল রকেট শেল : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তমব্রু সড়ক থেকে একটি রকেট শেল উদ্ধার করেছেন বিজিবির সদস্যরা। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেলটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে দুপুরে এক নারী ধানক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে সেটি দেখতে পান। ওই নারী রকেট শেল চিনতে না পেরে ক্ষেত থেকে সরিয়ে রাস্তায় ধারে রাখেন। লোকজন এটি চিনতে পেরে বিজিবিকে খবর দেয়। দুপুরের পর বিজিবি সড়কটিতে যাতায়াত বন্ধ এবং আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে দেয়। সন্ধ্যার আগে লাঞ্চারটি বিজিবি সরিয়ে নেয়। বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মেহেদী হাসান কবীর বলেন, রকেট লাঞ্চারটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে পড়ে রয়েছে অজ্ঞাতপরিচয়ের মরদেহ : কক্সবাজারের উখিয়ায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ পড়ে রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকেও পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালীর রহমতের বিল এলাকায় সীমান্ত ঘেঁষে মরদেহটি পড়ে ছিল। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।

অনুপ্রবেশের চেষ্টা রোহিঙ্গা নবী হোসেনের : মিয়ানমারে সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে ফের দলবল নিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হোয়াইক্যং মাঝেরপাড়া গ্রামসংলগ্ন সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে নবী হোসেন গ্রুপ। বিকেলের দিকে সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের লোকজনের শব্দ শুনতে পেয়ে বিজিবি গ্রামবাসীর সহযোগিতা চায়। বিজিবির ডাকে সাড়া দিয়ে হাজারো গ্রামবাসী সীমান্তে গেলে নবী হোসেন ও তার দলের সদস্যরা ওই এলাকা থেকে সরে যায়।

এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত পাহারায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।