গাজা যুদ্ধ থামানোর ক্ষমতা না থাকা হতাশার : গুতেরেস

গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি স্নাইপারের গুলিতে ২১ জন নিহত হয়েছে। আর ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছে ১০৭ ফিলিস্তিনি। রাফাহ শহরে ইসরায়েলি অভিযানের কেন্দ্র স্থানান্তরিত হওয়ার পর গতকাল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই অঞ্চলে যুদ্ধের পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলেছেন। এদিকে গাজা যুদ্ধে যখন প্রাণহানি ২৮ হাজারের কাছাকাছি তখন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে তার হাতে কোনো ক্ষমতা নেই, যা হতাশার।

গুতেরেস বলেন, তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না যা ন্যূনতম হলেও আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি সম্মানস্বরূপ মানুষের জন্য কোনো কিছু করতে পারে।

ওই সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, ‘আমার কোনো ক্ষমতা নেই এটি বন্ধ করার এমন বিষয় জানা এবং মানুষের ভোগান্তির চরম অবস্থা দেখা পরিস্থিতি আমার জন্য চূড়ান্ত হতাশার। কিন্তু এটিই বাস্তবতা। আমার কোনো ক্ষমতা নেই এটি থামানোর।’ তবে তিনি বলেন, এর বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ তুলছেন।

সম্প্রতি ইসরায়েল গাজার রাফাহতে ব্যাপক পরিসরে অভিযান চালানের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এ নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল বলেন, তিনি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা রাফাহতে একটি দ্বিস্তরীয় পরিকল্পনা করেন, যেখানে বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে হামাসকে নির্মূল করা যায়।

রাফাহকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়ে গুতেরেস বলছেন, ইসরায়েল মধ্য ও উত্তর গাজায় যে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ ও আক্রমণ চালিয়েছে তা রাফাহতে চালাতে তা হবে ‘ভয়াবহতম ট্র্যাজেডি’।

এদিকে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি স্নাইপাররা হামলা চালিয়ে ২১ জনকে হত্যা করেছে। আর গাজার বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ২৪ ঘণ্টায় হত্যা করেছে ১০৭ জনকে। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত চলা আগ্রাসনে ইসরায়েল গাজার ২৭ হাজার ৯৪৭ জনকে হত্যা করেছে, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু। অর্থাৎ গাজার বেসামরিক প্রাণহানি ২৮ হাজার স্পর্শ করার দ্বারপ্রান্তে। এই আগ্রাসনে আহত হয়েছে ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ।