সৌম্য রিয়াদে বিদায় দুর্দান্ত ঢাকার

বিপিএলে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকাকে ৪০ রানে হারিয়েছে বরিশাল। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট হারানো ফরচুন বরিশাল ইনিংসশেষে সংগ্রহ করেছে ৪ উইকেটে ২০০ রান। আর এ কীর্তি সম্ভব হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সৌম্য সরকারের চোখ ধাঁধানো এক জুটির কল্যাণে। চতুর্থ উইকেটে ৮৫ বলে ১৩৯ রানের চলতি বিপিএলের সর্বোচ্চ জুটি গড়েন রিয়াদ ও সৌম্য। আগের সর্বোচ্চ ছিল চট্টগ্রামের শাহাদাত হোসেন দীপু ও নাজিবউল্লাহ জাদরানের ১২১ রানের জুটি।

ইনিংসের শুরুতে ৭ বলের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন তামিম, শেহজাদ ও মুশফিক। শেহজাদ ১০, তামিম ৪ ও মুশফিক করেন ১ রান। তামিমকে ফেরান শরিফুল। বাকি দুজনকে একই ওভারে আউট করেন তাসকিন। এর পর শুরু হয় রিয়াদ-সৌম্য জুটি। ৩২ বলে ফিফটি করেন সৌম্য সরকার। এটি তার  ষষ্ঠ বিপিএল ফিফটি, চলতি আসরের প্রথম। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ফিফটি করতে নেন ৩৭ বল। ৪৭ বলে ৭৩ করে মাহমুদউল্লাহ যখন ফেরেন ততক্ষণে হাঁকিয়েছেন ৭টি চার ও ৪টি ছয়। রিয়াদকে থামান শরিফুল। দুজনের জুটি শতরান ছোঁয় ৬৬ বলে। ৩৯ বলে ৫৮ রানে থাকাকালীন সামারাকুনের ফুলটস বল আঘাত হানে সৌম্যর হাঁটুতে। ব্যাথায় লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। চিকিৎসা নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আবার শুরু করেন চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি। শোয়েব মালিক করেন ৯ বলে অপরাজিত ১৯ রান। ৪৯ বলে ৪ চার ও ৬ ছক্কায় ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন সৌম্য।

জবাবে একমাত্র অ্যালেক্স রসের প্রতিরোধগড়া ফিফটি ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি ঢাকার। ৩০ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫২ রান করেন রস। মেহেরব হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ২৮ রান। অধিনায়ক তাসকিন করেন ৬ বলে ১২ রান। সাইফউদ্দিন ৩টি এবং ম্যাককয় ও মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন। তাতে ঢাকার ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৪৯ রানে।

সেই প্রথম ম্যাচটিতে জয় পেয়েছিল দুর্দান্ত ঢাকা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে তারা হারিয়েছিল ৫ উইকেটে। তার পর একে একে ৮টি ম্যাচ হারল আসরের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। একদিন আগে কুমিল্লাকে পেয়ে আবারও জয়ের সুবাস পাচ্ছিল। তবে তাওহীদ হৃদয়ের একক বীরত্ব আর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে সেই ম্যাচটিও জিতে নেয় কুমিল্লা। আর গতরাতে রিয়াদ-সৌম্যর তাণ্ডবে হেরে গিয়ে ঢাকা পর্বশেষে টেবিলের তলানিতেই থাকতে হচ্ছে তাদের। ৮ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে উঠে এলো বরিশাল।