নিঃশর্ত ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি ভাঙ্গিয়ে ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে ঢাকা ক্যাপিটালস এর ক্রিকেটারদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। সোমবার বিসিবি কার্যালয়ে মিঠু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঢাকা ক্যাপিটালস প্রদত্ত দুটো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি ব্যাঙ্কে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৭-৮ দিনের মধ্যে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এই ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি নগদায়ন করে বিসিবি’র হিসেবে অর্থ স্থানান্তর করবে। দেশ রূপান্তর একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাঙ্কের কর্মকর্তার কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী একটি ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি নগদায়নে ৫ কর্মদিবস সময়ের প্রয়োজন হয়।
বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালস মাঠের বাইরে অনেক চমক জাগিয়েছে শাকিব খান ও শোয়েব আখতারের মত বড় তারকাদের নিয়ে বিজ্ঞাপণ ও গনসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে। তবে মাঠে তারা হতাশ করেছে দুই মৌসুমেই। প্রথম মৌসুমে ১২ ম্যাচে মাত্র ৩ জয়, খালেদ মাহমুদ সুজনের কোচ হিসেবে টানা ১৫ হার (আগের মৌসুমে দূর্দান্ত ঢাকা’র কোচ) এবং স্পট ফিক্সিং কর্মকান্ডে নাম উঠে আসা। পরের মৌসুমে অর্থাৎ সবশেষ ২০২৬ মৌসুমেও বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ জিজ্ঞাসাবাদ করে ক্যাপিটালস দলের সাইফ হাসান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজকে। এই নিয়ে ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষ অভিযোগ জানালেও বিসিবি জানায় এই জিজ্ঞাসাবাদ নিয়মিত কর্মকান্ডেরই অংশ। মাঠেও বিফল ঢাকা ক্যাপিটালস খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধেও করেছে গড়িমশি। নেপথ্যে ঢাকার মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠান চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস এর মিজানুর রহমান, যার সঙ্গে বিপিএলের এই আর্থিক অনিয়মের সম্পর্ক বহুদিনের। অতীতে সিলেট রয়্যালস, রংপুর রাইডার্স দলের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিজান। তার নামে আছে চেক প্রতারণা সহ একাধিক মামলা, জেলও খেটেছেন। তিনিই ঢাকা ক্যাপিটালস দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং নানান ভাবে বিপিএল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ার ৬৬ দিন পরেও পাওনা পরিশোধে টালবাহানা চলছে।
তবে এসবে কান না দিয়ে তাদের দেয়া ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি নগদায়নে পাঠানো হয়েছে বলে দাবী করছেন মিঠু, ‘ঢাকার ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধ করতে একটু দেরি হয়ে গেল। কারণ হলো নিয়মের ভেতরে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছি। লিগ শেষ হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সব টাকা দেওয়ার কথা ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়মের ভেতরে থেকে সেটা করতে পারলেও ঢাকা ব্যর্থ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের থেকেও ১৫ দিন বেশি দেওয়া হয়েছিল তাদের। তারা পরিশোধ না করায় আমরা ব্যাংক জামানতের টাকায় খেলোয়াড়দের সম্মানী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
অনেকটা নিরুপায় হয়েই মিঠু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগে ভাই বিপিএল-এর এই হিসাব-নিকাশটা শেষ করতে দিন। এটা খুব ডিফিকাল্ট একটা জায়গা, অনেক প্রেসার। আমার এখনকার মেইন টার্গেট হলো ঢাকার পেমেন্টটা ক্লিয়ার করা। এটা শেষ করে অ্যাকাউন্টস ক্লোজ করতে পারলে তখন পরের বছরের কথা ভাবা যাবে। এখন শুধু ঢাকা আর অ্যাকাউন্টস ক্লোজিং নিয়ে ভাবছি।‘ কিভাবে ক্লোজিংটা হবে সেই উপায় জানিয়েছেন মিঠু, ‘ঢাকাকে আমরা ২৩ তারিখ খেলা শেষ হওয়ার পর ৩টি চিঠি দিয়েছি। ওরা বারবার প্রমিস করেছে টাকা দিয়ে দেবে, কিন্তু এখনো প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার উপরে প্লেয়াররা পায়। তাই আমরা বসে না থেকে ওদের রাখা 'আনকন্ডিশনাল ব্যাংক গ্যারান্টি' ভাঙানোর জন্য ব্যাংকে পাঠিয়ে দিয়েছি। ৭-৮ দিনের মধ্যে ব্যাংক টাকা দিয়ে দিলে আমরা ঢাকা আর প্লেয়ারদের ডেকে বোর্ড থেকে পেমেন্ট ক্লিয়ার করে দেব’। মিঠু জানান, ওয়ান ব্যাঙ্ক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাঙ্ক ঢাকার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিয়েছে। খেলোয়াড়দের বাদী অনুযায়ী ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে তাদের পাওনা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
'এমএলএসে যেও না, তুমিও মেসি হয়ে যাবে'—সালাহকে মিশরীয় কোচের সতর্কবার্তা