ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহরের শহীদ মিনার চত্বর দখল করে গড়ে উঠেছে অটোরিকশা ও ‘ম্যাজিক’ (লেগুনা) গাড়ির স্ট্যান্ড। এমনকি শহীদ মিনারের চারপাশে ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকে সারা বছর। চত্বরটি উন্মুক্ত হওয়ায় এর দুই পাশে মলমূত্র ত্যাগ করেন যাত্রী ও পথচারীরা। এতে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি শব্দদূষণ সমস্যার সৃষ্টি করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ছাড়া চত্বর দখল করে অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা রাখায় শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে এলাকার সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষার মাসে সারা দেশের শহীদ মিনারগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু নলছিটি পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এখনো পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়নি, এখনো রয়েছে সেখানে সারি সারি অটোরিকশা ও ম্যাজিক গাড়ি।
জানা গেছে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নলছিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছোট আকারে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে ১৯৯৮ সালে শহরের কলেজ রোডে বড় আকারে আরেকটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এটিই এখন নলছিটি উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এই শহীদ মিনারে প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। অথচ সেই শহীদ মিনারটি এখন অরক্ষিত। নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। যথাযোগ্য মর্যাদা ও অযতœ-অবহেলায় পড়ে আছে। ২০১৬ সালের দিকে শহীদ মিনার চত্বরে অবৈধভাবে অটোরিকশা ও ম্যাজিক গাড়ির স্ট্যান্ড করা হয়। সেই থেকে শহীদ মিনার চত্বর এখন অটোস্ট্যান্ড নামে পরিচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহীদ মিনারটি সুরক্ষিত না থাকায় দিনের বেলায় অটোরিকশা ও ম্যাজিক গাড়ি স্ট্যান্ড থাকলেও রাতের বেলায় জায়গাটি নির্জন হওয়ায় এখানে বসে মাদকের আড্ডা। ফলে অরক্ষিত রয়েছে শহীদ মিনারটি। এলাকাবাসী মিনার চত্বরে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় বর্তমানে এটি অস্তিত্ব-সংকটে রয়েছে।
অটোরিকশা ও ম্যাজিক গাড়ির চালকরা জানান, ব্যস্ততম এ এলাকায় অটোরিকশা রাখার মতো আশপাশে কোনো জায়গা নেই। সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং করে রাখলে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই শহীদ মিনার চত্বরের খালি জায়গায় অটোরিকশাস্ট্যান্ড করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নলছিটি পৌরসভার মেয়র আব্দুল ওয়াহেদ খান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে শহীদ মিনার চত্বর থেকে অটোরিকশা স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় পৌর মেয়র ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করতে অনুরোধ করা হয়েছে।