আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স বন্ধ, বিপাকে প্রবাসীরা 

দেশে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) নিয়ন্ত্রণাধীন দুই প্রতিষ্ঠানে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি ও চাইনিজ ভাষা শিক্ষার কোর্স চালু আছে। অথচ প্রবাসীদের আগ্রহ নেই এমন অজুহাতে সাত বছর আগে আরবি ভাষা কোর্স বন্ধ করেছে বিএমইটি। এখন পর্যন্ত সেই কোর্স চালু করা হয়নি। অথচ গত অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশে সাড়ে ৭ লাখ শ্রমিক পাড়ি জমিয়েছেন। এসব দেশের ভাষা আরবি হলেও শ্রমিকরা পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে অদক্ষ অবস্থায় দেশ ছাড়েন।

বড় শ্রমবাজারের মধ্যে অন্যতম মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ওমান। লেবাননেও যাচ্ছেন দেশের কর্মীরা। এসব দেশে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রকম অসুবিধায় পড়ার অন্যতম কারণ ভাষাদক্ষতা না থাকা; বিশেষ করে ভালো কাজ থেকে তাদের বঞ্চিত হতে হচ্ছে এ কারণে। এতে অন্যদের মতো কাজ করেও শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সৌদি আরবে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৪, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৯৮ হাজার ৪২২, কুয়েতে ৩৬ হাজার ৫৪৮, ওমানে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৩, কাতারে ৫৬ হাজার ১৪৮ জন গেছেন। সবগুলো দেশের ভাষাই আরবি। প্রতি বছর এত সংখ্যক শ্রমিক গেলেও তাদের ভাষা প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে তারা কর্মক্ষেত্রে ভোগান্তিসহ ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সৌদির একটি ফার্মেসিতে কর্মরত তবারক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সৌদি আরব আসার আগে আরবি ভাষা শেখার জন্য দিনাজপুর টিটিসি কেন্দ্রে যাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারি আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স বন্ধ। এতে আমাকে বেসরকারিভাবে আরবি শিখতে হয়েছে। ফলে সরকারিভাবে যেখানে টাকা খরচ ছাড়াই কোর্স করা যায়, সেখানে বেসরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আমাকে আরবি শিখতে হয়েছে। প্রবাসীদের জন্য খুব দ্রুত আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুর দাবি জানাই।’

দেশে বিদেশি ভাষা শেখার প্রতিষ্ঠান সরকারিভাবে খুবই কম। শহর পর্যায়ে কিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে নেই বললেই চলে। ফলে বিদেশগামী শ্রমিকরা ভাষা শিখতে অনীহা দেখান। বিদেশে যাওয়ার পর তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেন। তবে দেশে সরকারিভাবে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি এবং চাইনিজ ভাষা শিক্ষার প্রতিষ্ঠান থাকলেও আরবি ভাষা শিক্ষার কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধীনে স্বল্পমেয়াদি আরবি ভাষা কোর্সে ভর্তির সুযোগ থাকলেও সবার জন্য তা প্রযোজ্য নয়।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে জাপানি ভাষা শিক্ষার কেন্দ্র রয়েছে ৪৩টি, ৩২টি কোরিয়ান, ১৬টি ইংরেজি আর চাইনিজ ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে ৪টি। তবে আরবি ভাষা শিক্ষার কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। অথচ গত বছর সবচেয়ে বেশি প্রবাসী গেছেন সৌদি আরবে।

গত অর্থবছরে (২০২২-২৩) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর আওতায় সারা দেশে ৯৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৪টি দেশের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়। ৬ মাস মেয়াদে ৮০০ জন জাপানিজ ভাষা শিখেছেন। এ ছাড়া ৬ মাস মেয়াদে কোরিয়ান ভাষা শিখেছেন ৮০৫ জন, ২ মাস মেয়াদে ইংরেজি ভাষা শিখেছেন ৭২৮ জন এবং ৩ মাস মেয়াদে চাইনিজ ভাষা শিখেছেন ৯০ জন। গত অর্থবছরে মোট প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৪২৩। অথচ ওই সময় প্রায় ১৩ লাখ শ্রমিক বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

এ বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা) মো. সালাহ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাত বছর আগে আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স ছিল। শুরুর দিকে কিছুটা সাড়া মিললেও পরে শিক্ষার্থী কমে যায়। এখন এ কোর্সটি বন্ধ আছে। সৌদি আরবে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক না হওয়ায় শ্রমিকরা আগ্রহ দেখান না।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সারা দেশে আবার আরবি ভাষা কোর্স চালুর জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই মোতাবেক কাজ শুরু করেছি।’