জমে উঠেছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা। প্রতিদিনই লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের পদচারণায় জমজমাট এখন মেলা প্রাঙ্গণ। নতুন বইয়ের গন্ধে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতেছে পাঠকরা। প্রতিদিনই শত শত বইয়ের মোড়ক উম্মোচন হচ্ছে মেলায়। প্রবন্ধ, জীবনী, গল্প, উপন্যাস, কবিতায় মন কাড়ছে পাঠকদের। তবে আক্ষেপ আছে গবেষণাধর্মী বইয়ে। নতুন খুব বেশি বই নেই, পুরাতনও বই অপ্রতুল স্টল প্যাভিলিয়নগুলোতে। তবে গবেষণামূলক বইয়ের ওপর পাঠকের আগ্রহ কম বলে দাবি প্রকাশনাগুলোর।
বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মেলায় গবেষণামূলক বই এসেছে ২টি। এ নিয়ে এবারের মেলায় ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৭টি গবেষণামূলক বই এসেছে।
প্রকাশকরা বলছেন, এবারের মেলায় গবেষণামূলক বই তেমন একটা আসেনি। যা-ও এসেছে তা বিক্রি নেই। সিংহভাগ পাঠকই গবেষণামূলক বইয়ের বিষয়ে আগ্রহ দেখান না।
রবিবার বইমেলায় অন্তত ১০টি প্রকাশনীতে ঘুরে মাত্র ২-৩টি প্রকাশনীতে গবেষণাধর্মী বই পাওয়া গেছে। দুই একজন পাঠক গবেষণাধর্মী বই খুঁজলেও ভালো বই পাচ্ছেন না বলে জানান। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারুক আজম। তিনি বলেন, প্রতি বছর মেলা থেকে আমি গবেষণাধর্মী বই সংগ্রহ করে থাকি। কেননা এই বই থেকে আমি কিছু শিখতে পারি। তবে স্টল প্যাভিলিয়নে ঘুরে হতাশ হই। বেশিরভাগ স্টলেই উত্তর পাই এমন বই নেই।
জিনিয়াস পাবলিকেশনের বিক্রয়কর্মী জ্যাকি বলেন, ‘আমাদের এবারে নতুন গবেষণামূলক বই আসেনি। তবে গতবারের সুফিবাদের ওপর লেখা মোহাম্মদ আবুল খায়েরের লেখা 'সুফিকোষ' বইটি থাকলেও এখনো বিক্রি হয়নি। পাঠকদের মাঝেও তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায় না। এখনও পর্যন্ত কাউকে খুঁজতেও দেখিনি।
ইত্যাদি প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সাকিব হাসান বলেন, ওইভাবে কেউ আসে না, দুই একজন পাঠক এসে বইগুলো খুঁজেন। বিক্রি হয় তবে সেটা খুব কম। পাঠকদের আগ্রহ কমই দেখা যায়। এবার আমাদের গবেষণাধর্মী দুইটি নতুন বই এসেছে।
তবে কয়েকটি প্রকাশনী গবেষণাধর্মী বইয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রথমা প্রকাশনী। এবছরও ৫টির অধিক গবেষণাধর্মী নতুন বই এনেছে প্রকাশনীটি। প্রথমা প্রকাশনীর ম্যানেজার জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুধু বইমেলা নয়, সারা বছরই আমাদের প্রকাশনীতে গবেষণাধর্মী বইয়ের চাহিদা বেশি থাকে। আমরা এটাতে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। মানুষ জানে যে আমাদের এখানে এই ধর্মী বই পাওয়া যায়।
দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের সেলস ম্যানেজার এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, পাঠক চাহিদা বাড়ছে৷ তবে সেটি উপন্যাসের তুলনায় কম। বিশেষ করে তরুণরা গল্প উপন্যাস বেশি পছন্দ করেন। যাদের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার আগ্রহ আছে, তারাই বেশি বইগুলো খুঁজে। পাঠক সমাবেশের লিয়ন বলেন, আমরা বিষয়ভিত্তিক এবং গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ করে থাকি। তাই এসবের চাহিদাও বেশি আমাদের প্রকাশনীতে।
