জাপান থেকে আসা ১৪ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর বিষয়ে রায় এসেছে হাইকোর্ট থেকে। এতে বলা হয়েছে, বড় মেয়ে জেসমিন মালাইকা থাকবে জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর কাছে। অন্যদিকে মেজ মেয়ে লায়লা সানিয়া থাকবে বাংলাদেশি ইমরান শরীফের কাছে। বাংলাদেশে থাকা দুই শিশুর জিম্মা পেতে ইমরান শরীফের আবেদন খারিজ করে ঢাকার জেলা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিশন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেয় হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ।
বিচারপতি মামনুন রহমানের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, তিন সন্তানকে বাবা-মা যেন যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে দেখাশুনা করতে পারেন সে বিষয়টি বাবা ও মা নিশ্চিত করবেন। তবে, দুই পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, তারা হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবেন।
২০০৮ সালে নাকানো এরিকো বিয়ে করেন বাংলাদেশি নাগরিক প্রকৌশলী ইমরান শরীফকে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। ইমরান শরীফ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ছোট মেয়ে রয়ে যায় জাপানে মায়ের কাছে। এরপর নাকানো এরিকো দুই মেয়ের অভিভাবকত্ব পেতে বাংলাদেশে এসে আইনি লড়াই শুরু করেন। তিন বছর ধরে দুই শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে এ দম্পতির আইনি লড়াই, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সমঝোতার চেষ্টার বিষয়টি নানা সময়ে আলোচনায় এসেছে।
দুই শিশুর জিম্মা নিয়ে বাবা ইমরান শরীফের করা মামলাটি গত বছরের ২৯ জানুয়ারি খারিজ করে দেয় ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালত। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে ইমরান শরীফ ঢাকার জেলা জজ আদালতে আপিল করলে একই বছরের ১৬ জুলাই তা খারিজ হয়ে যায়। সেই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন তিনি। এর ওপর শুনানি নিয়ে আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে গতকাল এ রায় হলো। আদালতে ইমরান শরীফের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আখতার ইমাম। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার লাভলী। নাকানো এরিকোর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজমালুল হোসেন কেসি ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
ইমরান শরীফের আইনজীবী নাসিমা আক্তার লাভলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের রিভিশন আংশিক মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট। আমরা রায়ে এই বিষয়টি (বড় মেয়ের জিম্মা) নিয়ে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ নাকানোর আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মায়ের সঙ্গে থাকা মেয়েকে (মালাইকা) নিয়ে জাপানে যাওয়া-আসাতে কোনো বাধা নিষেধ থাকবে না। তেমনি বাবার কাছে থাকা মেয়ের বিষয়ে মাকে দেখাশুনার সুযোগ দিতে হবে। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আমরা আপিল করব।’