সমালোচনা এড়াতে সংরক্ষিত আসনে বাদ শেরিফা!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি।

গতকাল বুধবার সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

জাতীয় পার্টির (জাপা) দপ্তর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার জাপা সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করবে না। তারা আনুপাতিক হারে যে দুটি আসন পেতে যাচ্ছে, তা দলীয় চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের নির্ধারণ করবেন। একটি আসনে দলের কো-চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম নিশ্চিত হলেও, অন্যটি কাকে দেওয়া হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে।

জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, একাদশ সংসদে সালমা ইসলাম ও শেরিফা কাদের সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি ছিলেন। এবার তারা সরাসরি নির্বাচন করলেও হেরে যান। ফলে এই দুই প্রার্থীকে আবার সংরক্ষিত আসন থেকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য করার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। কিন্তু দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে শেরিফা কাদেরের আসন সমঝোতা ও দলের প্রেসিডিয়াম মেম্বার হওয়া নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। সমালোচনার ভয়ে স্ত্রীকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিএম কাদের।

শেরিফা কাদেরের জায়গায় এবার আলোচনায় রয়েছেন জাপার আরেক কো-চেয়ারম্যান আবু হোসেন বাবলার স্ত্রী সালমা হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম মেম্বার নাজমা আক্তার। এর বাইরে আলোচনায় আছেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হেনা খান পন্নি, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন্নাহার বেগম, ঝিনাইদহ থেকে নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সদস্য মনিকা আলম, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত মাহমুদুর রহমান মুন্নী, কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদারের স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রত্না।

দ্বাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ২৬ আসনে সমঝোতা করে নির্বাচনে যায় জাতীয় পার্টি। দলটির শীর্ষপর্যায়ের একাধিক নেতার আসন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় নির্বাচনে না যেতে জিএম কাদের দলীয় চাপে পড়েন। দিনভর নাটকীয়তা শেষে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ জাপাকে ছেড়ে দেওয়া আসনের তালিকা প্রকাশ করে। যেখানে ঢাকায় শুধু শেরিফা কাদেরের আসন ছিল।

এরপর থেকে রাজনীতির মাঠে আলোচনা শুরু হয় শুধু স্ত্রীর আসন পেয়েই নির্বাচনে যান জিএম কাদের। নির্বাচনের পর থেকে জাপায় এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত নেতাকর্মীদের কার্যালয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে না। এই সুবিধা নিয়ে ইতিমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন রওশন অনুসারীরা।