নির্বাচনের এক সপ্তাহের বেশি সময় পর সরকার গঠনে তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। গতকাল বৃহস্পতিবার মাওলানা ফজলুর রেহমানের জমইয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই-এফ) দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তারা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী পদে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওমর আয়ুব খানকে মনোনীত করেন ইমরান খান। পাঞ্জাব প্রদেশে সরকার গড়তেও চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছে দলটি।
পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যরিস্টার গহর আলি খান গতকাল বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশের আদিয়ালা কারাগারে বন্দি থাকা পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের জন্য দলের নেতা ওমর আয়ুব খানকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর পাঞ্জাব প্রদেশে সরকার গঠনের জন্য মিয়াঁ আসলাম ইকবালকে মনোনীত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য। আবার বালুচিস্তানে সালার কাকারকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেছে দলটি। তবে এখানে পর্যাপ্ত আসন পায়নি দলটি।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে পিটিআই-সমর্থিত প্রায় তিন শতাধিক স্বাধীন প্রার্থী জয়লাভ করে। জাতীয় পরিষদের ২৬৫টি আসনের মধ্যে ৯২টির মতো আসনে জয় পায় দলটির প্রার্থীরা। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৩৪টির মতো আসন। পাঞ্জাবে প্রাদেশিক পরিষদের ২৯৭ আসনের মধ্যে নওয়াজের দল পিএমএল-এন পেয়েছে ১৩১টি এবং ইমরানপন্থি স্বাধীনরা পেয়েছেন ১১৬টির মতো। সরকার গঠনের জন্য ১৪৯টি দরকার। অর্থাৎ কেন্দ্রে ও পাঞ্জাবে সরকার গঠনের জন্য পিটিআইয়ের হাতে যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তবুও সরকার গড়তে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারা। একই সঙ্গে তারা আগামীকাল শনিবার নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তারা।
পিটিআই এমন সময় সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করল, যখন এরই মধ্যে জাতীয় পরিষদে ৫৪ আসন পাওয়া পিপিপি এবং ৭৯ আসন পাওয়া পিএমএন-এন জোট সরকার গড়তে আলোচনা বেশ দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, পিটিআই গতকাল যে দলটির (জেইউআই-এফ) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তারা সর্বশেষ শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশ ছিল। তাদের সঙ্গে পিএমএল-এনের সখ্য দীর্ঘদিনের।
পিটিআই নেতৃত্বের সূত্র জানায়, ব্যারিস্টার গহরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল জেইউআই-এফ প্রধান মাওলানা ফজলুর রেহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এর আগে গত বুধবার ইমরানের দল ঘোষণা দেয়, তারা মুজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিনের (এমডব্লিউএম) সঙ্গে জোট করছে। মূলত স্বাধীন প্রার্থীরা যাতে ওই দলে যোগ দিয়ে সংরক্ষিত আসন লাভ করতে পারে, সেই কৌশল থেকেই দলটির সঙ্গে গাটছাড়া বাঁধছে তারা। এদিকে গতকাল গুঞ্জন ছড়ায় যে, পিপিপির সঙ্গে সরকার গঠনের জন্য যোগাযোগ হয়েছে পিটিআইয়ের। কিন্তু পরে তা নাকচ করে দেয় পিটিআই নেতৃত্ব।