বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

গণতন্ত্রের জন্য সুশীলসমাজের সঙ্গে কাজ চলছে

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির দিকে যুক্তরাষ্ট্র মনোনিবেশ করতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার। সেজন্য সুশীলসমাজের সঙ্গে তারা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গত বুধবার ওয়াশিংটনে আয়োজিত বিশেষ ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তার এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে ওই সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছিল বাইডেন প্রশাসন। তিনি জানতে চান, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে কি না? ওই সাংবাদিক বলেন, ‘আমরা কিছু সমালোচনা দেখেছি এবং আমি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের অংশটি উল্লেখ করতে পারি যে, তারা লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছু হটেছে। তাহলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী? গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার কাজের ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশে অনেক সুবিধা দেখছি।’

জবাবে আফরিন আখতার বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠান ও গণতন্ত্রের ভারসাম্য গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তাই সংবাদমাধ্যম নিয়ে কাজ করছে; বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম গড়ে তোলা, সুশীলসমাজের সঙ্গে কাজ করা ও শ্রমিক সংগঠকদের সঙ্গে কাজ করাসহ বিভিন্ন পরিসরে প্রচুর কাজ চলছে, যা বাংলাদেশকে দীর্ঘ মেয়াদে আরও গণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে সক্ষম করবে।

ওই সাংবাদিক আরেক প্রশ্নে বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের উত্থান বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলটি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কীভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছে? কয়েক বছর ধরে আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কঠোর সমালোচনা শুনেছি। বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী সরকারের সঙ্গে এটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে কাজ করবে?’

জবাবে মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিষয়টিতে ফোকাস করছি। আমরা অবিশ্বাস্যভাবে বাংলাদেশে সুশীলসমাজকে যুক্ত করার দিকে মনোনিবেশ করছি। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রথম স্তম্ভ হলো একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল। তাই আমি সাউথ এশিয়া গভর্নেন্স ফান্ডের কথা বলছিলাম।’ আফরিন আখতার আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের কৃষকদের সঙ্গে কাজ করছি; যারা সরকারি সেবা পেতে সংগ্রাম করছেন। আমরা শ্রমিক সংগঠকদের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা সুশীলসমাজের সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করছি।’

মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি করার ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করা, দীর্ঘ মেয়াদে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। অগ্রাধিকারের বৃহত্তর পরিসরে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখে সত্যিই সন্তুষ্ট হয়েছি, যা সত্যিই অর্থনৈতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করা, আমাদের দুদেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা যা করার চেষ্টা করছি তার অনেক কিছুই প্রতিফলিত করে। বাংলাদেশ অবশ্যই শান্তিরক্ষায় (পিস মিশন) আমাদের অন্যতম বড় অবদান রাখা দেশ। আমরা সেই অবদানকে সমর্থন করতে পেরে খুবই আনন্দিত।’

মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের বিষয়গুলোকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এলেই সুশীলসমাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ফোকাস।