গর্ভাবস্থায় অ্যানোমালি স্ক্যান কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিটি পরিবার চায়, তার সন্তান সুস্থ থাকুক।  নিরাপদে জন্ম নিক। এ জন্য সবার চেষ্টা ও সচেতনতার কোনো কমতি থাকে না। গর্ভবতী মা বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন তার অনাগত সন্তানের নড়াচড়া, গঠন ও বৃদ্ধি নিয়ে। এ জন্য গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ট্রাইমিস্টারে যে আলট্রাসনোগ্রাম স্ক্যানটি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো অ্যানোমালি স্ক্যান। এই স্ক্যান একটা সময় আমাদের দেশে খুব একটা প্রচলিত ছিলো না। কিন্তু বর্তমানে এই স্ক্যানের মাধ্যমে সন্তানের গঠনগত কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে অনেকই এটা করেন। সেই সঙ্গে তার শারীরিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা-ও দেখা হয়। অ্যানোমালি স্ক্যান করতে  খুব বেশি সময় এর প্রয়োজন হয় না। মোট কথা ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা থাকলে কিছু বেশি সময় লাগতে পারে।

অ্যানোমালি স্ক্যান কী?

Ultrasound level 2  সম্পর্কে প্রেগনেন্ট নারীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি। অ্যানোমালি স্ক্যান এক ধরনের আধুনিক আলট্রাসনোগ্রাফি যার মাধ্যমে সাধারণ আলট্রাসনোগ্রাফি থেকে আরও উন্নত ও স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি পাওয়া সম্ভব। এটি টষঃৎধংড়ঁহফ ষবাবষ ২ নামেও পরিচিত। সাধারণত গর্ভাবস্থায় ১৮ সপ্তাহের পর থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে এটি করতে হয়। এটি সকল গর্ভবতী মাকেই করতে উপদেশ দেয়া হয়। তবে কেউ চাইলে এ পরীক্ষা নাও করতে পারেন। এই স্ক্যান করার মূল উদ্দেশ্য হলো গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা বা কোনো শারীরিক ত্রুটি আছে কিনা তা খুঁটিয়ে দেখা। বেশ কিছু শারীরিক ত্রুটি অ্যানোমালি স্ক্যানে ধরা পড়ে যা সাধারণ আলট্রাসাউন্ডে ধরা পড়ে না। বাচ্চার লিঙ্গ বা জেন্ডার সম্পর্কেও এই স্ক্যান এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরীক্ষা পূর্বপ্রস্তুতি

কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি, অর্থাৎ প্রস্রাবের চাপের প্রয়োজন নেই। তবে ঢিলেঢালা পোশাক পরে এলে ভালো হয়।

পরীক্ষার ধরন

অন্যান্য গর্ভকালীন স্ক্যানের মতো রোগীকে বেডে শুইয়ে দিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। এই পরীক্ষায় গর্ভস্থ সন্তানের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ খুঁটিয়ে দেখা হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আলট্রাসনোগ্রামে ব্যবহৃত হয় শব্দতরঙ্গ, যার কোনো ক্ষতিকর দিক এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে ১০ কোটির বেশি গর্ভবতীর আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছে। আজও গর্ভস্থ শিশু অথবা মায়ের ওপর এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাবের তথ্য পাওয়া যায়নি। এই স্ক্যানের ফল মোটামুটি নির্ভুল। গবেষণায় দেখা গেছে, স্ক্যানের মাধ্যমে ৯৫ শতাংশ স্পাইনা বাইফিডা, ৮০ শতাংশ ক্লেফট লিপ বা প্যালেট, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ জন্মগত হৃৎপি-ের সমস্যা এবং ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ডাউন সিনড্রোমের ঝুঁকি নির্ণয় করা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন মেশিন আর দক্ষ চিকিৎসকের প্রয়োজন এই স্ক্যান করানোর জন্য।