রেলওয়েকে যাত্রীবান্ধব ও স্মার্ট করা হবে

রেলপথমন্ত্রী জিল্লুর হাকিম বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য রেল বিভাগে স্মার্ট ও দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। অতি শিগগিরই শূন্যপদ পূরণ করে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্বে রেল অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারছি না। আমাদের দক্ষ জনশক্তির অভাব আর সবচেয়ে বড় কথা আমাদের আন্তরিকতার অভাব। তা কাটিয়ে দক্ষ জনশক্তি নিয়ে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেলওয়েকে স্মার্ট রেলে রূপান্তরিত করবে এই সরকার। নতুন নতুন রেলপথ স্থাপন ও সেবার মান বৃদ্ধি করে রেলওয়েকে যাত্রীবান্ধব করবে এ সরকার।

আজ শনিবার সকাল ১১টায় দেশের বৃহত্তর নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে কারখানার ২৯টি শপ (উপকারখানা) পরিদর্শন এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জনবল দিনদিন কমে আসছে। ২৮৫৯ জনবলের বিপরীতে বর্তমানে ৮৬০ জন কর্মরত রয়েছেন। ২৮শ জনের কাজ তো আটশ জন করতে পারে না। এভাবে একটা কারখানা সচল রাখা সম্ভব না। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের যে যন্ত্রপাতি আছে আরও কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে লোকবল নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে রেলকে উন্নতির পর্যায়ে নিয়ে যেতে। এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও চান। সৈয়দপুর রেলওয়ে সেতু কারখানায় অতীতে রেলসেতুর গার্ডার তৈরি হতো। এছাড়াও পাহাড়তলীতে হতো। এখন অল্প কিছু হয় বাকিটা আমদানি করতে হয় এই দক্ষ জনশক্তির অভাবে। আমরা চাচ্ছি রেলকে স্বাবলম্বী করার জন্য। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে রেলকে স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আর আমাদের মানুষগুলোকে ভালো হতে হবে। মানুষ ভালো না হলে চেষ্টা করেও কিছু করা যায় না। প্রত্যেক জায়গা থেকে চুরি বন্ধ করতে হবে। চুরি যারা করে তাদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। রেলের অনেক জমি বেহাত হয়ে গেছে। এ কাজে জড়িত দুর্বৃত্তরা। এসব জমি দখলমুক্ত করে রেলওয়ে কারখানার আধুনিকায়নে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রেলপথমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সময় গোল্ডেন হ্যান্ডশেক করে আমাদের দক্ষ জনশক্তিকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যেকটা কারখানার যা ক্যাপাসিটি আছে আমরা ইচ্ছে করলে অনেক কিছু করতে পারি। কিন্তু সমস্যাটা হলো আমাদের লোকবলের অভাব। বিএনপির সময় মানুষ ট্রেনে যাত্রা করতে ভয় পেত। আর এখন প্রতিদিন শত শত মানুষ ট্রেনে টিকিট কেটে ভ্রমণ করছে।