সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এক্সপো সিটিতে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে নানা বর্ণের পাখির পালক মাথায় দিয়ে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছিলেন আমাজন বনের আদিবাসীরা। এক এক করে সেই ডাকে মিশে গিয়েছিলেন দুনিয়ার নানা প্রান্তের আদিবাসী মানুষেরাও। আমার তখন খুব বাংলাদেশের খাসি কবিরাজ নসিফ পথমি আর পরিবেশবাদী মান্দি শিক্ষক অজিত রিছিলের কথা মনে পড়েছিল। সিলেট অঞ্চলের বনের উদ্ভিদবৈচিত্র্য এবং এর জটিল প্রতিবেশবিদ্যা বিষয়ে নসিফের মতো দুর্দান্ত জ্ঞানের অধিকারী আজও কাউকে দেখিনি। শালবন কেটে আগ্রাসী একাশিয়া না লাগাতে বন বিভাগের হাতেপায়ে ধরেছিলেন অজিত রিছিল। কিন্তু বন বিভাগ সেসব পাত্তা দেয়নি। কেটে ফেলেছিল অতি প্রাচীন এক পত্রঝরা শালবন, নেত্রকোনার দুর্গাপুরের মেনকীফান্দায়। শালবন বাঁচাতে আন্দোলন গড়ে তোলেন অজিত রিছিল। জেলজুলুম খাটেন। আগ্রাসী প্রজাতির বিরুদ্ধে পৃথিবীর প্রথম জনআন্দোলন। নসিফ পথমি আর অজিত রিছিল উভয়েই আমার শিক্ষক ছিলেন। আমরা যখন দেশের দুই ভিন্ন জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে ক্লাস করতাম, তখন বলেছিলেন, রক্তে তাদের জঙ্গলের ডাক, তোলপাড় করা অরণ্যের শিহরণ নিয়েই তারা বড় হয়েছেন। আর তাই প্রকৃতির সামান্য কষ্ট তাদের মনে গভীর রক্তক্ষরণ তৈরি করে। আর এ কারণেই আমরা দেখি, উলগুলানের সময় থেকে বীরসা মুন্ডা জীবনবাজি রেখে আগলে দাঁড়ান জঙ্গল এবং তারই ধারাবাহিকতায় মধুপুর শালবনে জীবনবাজি রাখেন পীরেন স্নাল। স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের পর থেকেও যদি হিসাব করি তাহলেও দেশে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় বাঙালিদের জীবনবাজি রাখা পরিবেশ আন্দোলনের খুব একটা নজির নেই। এমনকি ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলন, যেখানে বাঙালিরা শহীদ হয়েছেন, এই আন্দোলনও প্রথম শুরু করেছিলেন আদিবাসীরাই। দেশের প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিতে পরিবেশগত অবদানের ভিত্তি মজবুত রাখার মূল দায়িত্বটি এখনো পালন করছেন দেশের আদিবাসীরাই। অথচ বাংলাদেশের জাত্যাভিমানী সমাজ ও রাষ্ট্র আদিবাসীদের এই অবদানকে সর্বসময় নিদারুণভাবে অস্বীকার করে। বরং আত্মপরিচয়, ভূমি, ভাষা, খাদ্য, উৎপাদন, রাজনীতি ও সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে আদিবাসীদের অতিপ্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দেয়।
পরিবেশবিজ্ঞানী বন্দনা শিবা (২০০২) তার একটি লেখায় জানিয়েছেন, ‘...পৃথিবীর মূল সম্পদগুলো হলো ভূমি, জল ও প্রতিবেশগত বৈচিত্র্য। দরিদ্রের প্রাকৃতিক মূলধনও তাই। বিশ্বায়নের প্রভাবে এই স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক উপাদানগুলো পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। নতুন ধরনের সম্পদ হিসেবে এই উপাদানগুলো আদিবাসী ও কৃষক সমাজের অধিকার থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে বিশ্বায়িত করপোররশনগুলোর নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত হচ্ছে। জাতীয় নীতি ও আইন লঙ্ঘন করে এই ঘটনাগুলো প্রায়ই ঘটছে।’ বিশ্বায়ন বিশ্লেষক এডোয়ার্ড এস হারমানও (২০০২) জানান, ‘...বিশ্বায়ন হলো বিশ্বব্যাপী করপোরেট-কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত যাবতীয় তত্ত্বসমূহের অন্যতম। অন্য প্রাসঙ্গিক তত্ত্বগুলো হলো মূলত দেশীয় সরকারের ক্ষমতা খর্ব, যেকোনো প্রকার অনিয়ম, বাজেটের ভারসাম্য, সামাজিক স্বীকৃতি প্রত্যাহার ও মুক্তবাণিজ্য।’ আর এই তথাকথিত মুক্তবাণিজ্য এবং করপোরেট বিশ্বায়নই আজ আদিবাসী জনগণকে আরও বেশি অরণ্যহারা করছে প্রশ্নহীন কায়দায়। এই বাণিজ্য বিশ্বায়নের এক কঠোর ঔপনিবেশিক ঐতিহাসিকতা রয়েছে। যেখানে জোরজবরদস্তি করে আদিবাসী জনগণের কাছ থেকে অরণ্য অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনভূমির কিছু রক্তাক্ত ইতিহাস এবং আদিবাসী বনঅধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার কারণসমূহ নিয়ে আলাপ করব। ড. সোমা বসু (২০০১) বিশ্বায়ন সম্পর্কিত তার একটি লেখায় বলেছেন, ‘...পুঁজিবাদীব্যবস্থা ও পুঁজিবাদীব্যবস্থায় লালিত-পালিত উন্নত দেশগুলোর মূলমন্ত্র হলো লাভ এবং সম্প্রসারণ। উন্নত দেশগুলো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বিশ্বায়নকে কাজে লাগিয়ে।’
বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’, ‘হাড্ডিসার গরিব দেশ’ কিংবা ‘আবর্জনার শহর’ হিসেবে নানাভাবে উপস্থাপন করাটা কেবলমাত্র পশ্চিমা ঔপনিবেশিক কায়দা নয়; এর মাধ্যমে দেশের বহু তথাকথিত তাত্ত্বিক, আলোকচিত্রী এবং রাজনীতিকরাও মুনাফার ভাগাড় গড়েছেন। তাদের এই কর্তৃত্ববাদী বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ কিন্তু আজকের নতুন কিছু নয়। এই কর্তৃত্ববাদী মনস্তত্ত্বই আদিবাসী সমাজকে শোষণ করেছে পৃথিবী জুড়ে এবং এমনকি এরাই গবেষণা ও উন্নয়নের নামে নানা সময়ে আদিবাসী সমাজকে চূড়ান্ত অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করেছে। এমনকি এখনো করে চলেছে। মানবিকতার ছদ্ম মুখোশ লাগানো এই মুনাফাখোর গোষ্ঠীই ঔপনিবেশিক আমলে অবারিত সম্পদ ও বৈচিত্র্যের এই দেশে লুণ্ঠন ও দখলদারিত্বের একক আধিপত্য কায়েম করেছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে আদিবাসীদের এক ‘শব্দহীন দল’ বানিয়েছিল, কেউ তাদের চিন্তা, অস্তিত্ব এবং বনজীবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়নি। ব্রিটিশ উপনিবেশ আদিবাসীদের ‘বন্য’, ‘আদিম’, ‘অসভ্য’ ও ‘বর্বর’ হিসেবে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করত। পাশাপাশি আদিবাসী জনগণের অরণ্যজীবন এবং লোকায়ত অরণ্যবিজ্ঞানও এই ঔপনিবেশিক মতাদর্শ দ্বারাই শাসিত হয় এবং আদিবাসীরা বনবিষয়ক ব্রিটিশ রাজত্বে সবদিক থেকেই সর্বপ্রান্তিক ও অধিকারহারা হয়ে পড়ে। অরণ্য ও আদিবাসী জীবনের ওপর এই অবিরাম সন্ত্রাস ও জখমের দগদগে ইতিহাস অবশ্যই আমাদের স্মরণ ও বিশ্লেষণে রাখা জরুরি, যখন আমরা প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় নানাভাবে অঙ্গীকার করছি।
খাদ্য ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় মানুষ বনের ওপর নির্ভরশীল হলেও ইউরোপীয় রেকর্ড থেকে বনভূমি বাণিজ্যিকায়ণের এক দুর্ধর্ষ কীর্তি জানা যায়। ১৭৭৮ সালে ক্যাপ্টেন জেমস কুক তার বাণিজ্য জাহাজ মেরামত করাতেন উত্তর-পশ্চিম আমেরিকার নুটকা সাউন্ড অঞ্চলে। জাহাজ মেরামতের জন্য তখন বনভূমির বৃক্ষের কাঠ ব্যবহৃত হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে ভ্যানকুভার দ্বীপ থেকে কাঠের তৈরি জাহাজের স্পার চীনে বিক্রি করাই এক লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়ায়। বাড়তে থাকে কাঠের বাণিজ্য এবং বনের বাণিজ্যিকায়ণ। এই বাণিজ্য চাঙ্গা রাখতেই এশীয় অঞ্চলের বনভূমির ওপর তৈরি হয় ব্রিটিশ উপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ। অরণ্যের গিলা-কলিজা তছনছ করে শুরু হয় এক প্রশ্নহীন ঔপনিবেশিক বন-বাণিজ্য।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড্যালটন হুকারের ‘হিমালয়ান জার্নাল (১৮৫৪)’ থেকেও জানা যায় তৎকালীন সিলেট অঞ্চলের বনভূমি ও পাহাড় থেকে কাশ, আগর, কয়লা ও চুনাপাথর বাণিজ্যিকভাবে আহরণ করা হতো। ব্রিটিশ শাসনামলে আসাম, নাগাল্যান্ড ও সিলেট অঞ্চলের বনভূমি থেকে সারা বিশ্বে আগর রপ্তানি হতো। পৃথিবী বিখ্যাত কলাগাছী আগর এ অঞ্চল ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যেত না। আর এসব অঞ্চল ছিল নাগা, কুকি, লুসাই, নেপালি, গোরাছানি, ডবলা, আঁকা, মিকির জনগোষ্ঠীর বসবাস। ১৯৫৩ সনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সিলেট জেলার দক্ষিণবাগে (বর্তমানের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা) স্থানীয় বাঙালিরা প্রতিষ্ঠা করেন পাথারিয়া আগর ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন। আদিবাসীরা নয়, আগরের মতো বনজদ্রব্যের ব্যবসাটি ব্রিটিশদের পর বাঙালি মুসলিমদের হাতে চলে আসে। দেখা যায় ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব কিংবা জাতিরাষ্ট্র সবখানেই বনভূমিকে বিবেচনা করা হয়েছে কেবলমাত্র বাজারে বিক্রয়যোগ্য পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে, কোনো প্রাণসত্তা হিসেবে নয়। ব্রিটিশ, ভারত, পাকিস্তান সব আমল শেষ হয়ে গেলেও এখনো বন বিভাগ সেই ঔপনিবেশিক মনস্তত্ত্বকেই ধারণ করে রেখেছে বা রাখতে বাধ্য হচ্ছে বা রাখতে চাচ্ছে। বন বিভাগ এখনো বনভূমিকে মনে করে কেবলমাত্র বাণিজ্যের কাঁচামালের উৎস আর মুনাফার ক্ষেত্র হিসেবে। আর বনবাসী আদিবাসীদের কাছে বন হলো পবিত্র মাতৃস্থল, যেখানে মানুষ ও বন্যপ্রাণী নিরাপদে বিচরণ করে।
অরণ্য ও আদিবাসী জীবনের এই প্রশ্নহীন সর্বনাশের জন্য অধিপতি পণ্যমানসিকতা ও বাণিজ্য বিস্তারই সরাসরি দায়ী। পাশাপাশি বনভূমি ও আদিবাসী জীবনকে রক্তাক্ত করেছে নানান উন্নয়ন আঘাত। ১৯৬০ সালে আমেরিকান দাতা সংস্থা ইউএসএইড-এর সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এই জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প সরাসরি বাংলাদেশের এক বিশাল পাহাড়ি প্রাকৃতিক বনভূমি ও আদিবাসী জীবনের অরণ্য অধিকারকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। নিরাপত্তা ক্যাম্প, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও রেলপথ নির্মাণ, বিমানবন্দর, ফায়ারিং ও বোম্বিং রেঞ্জ ইত্যাদি কারণেও প্রাকৃতিক বনভূমি ও বনভূমির আদিবাসীরা অরণ্যহারা হয়েছেন। ড. রতনলাল চক্রবর্ত্তী (২০০০) তার ‘সিলেটের নিঃস্ব আদিবাসী পাত্র’ বইতে দেখান, সুনামগঞ্জের হাওরের নল-খাগের বন সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে তুলে দেওয়া হয়েছে সিলেট কাগজ তৈরির মন্ড কারখানাতে। যার ফলে স্থানীয় হাজং আদিবাসী জনগণ হারিয়েছেন জলাবনের ঐতিহ্যগত অধিকার। বহুজাতিক খনিজ অনুসন্ধান ও খনিপ্রকল্পের কারণে অরণ্য ও আদিবাসী উভয়েই আজ মরণাপন্ন। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া, মাগুরছড়া, ডলুবাড়ি ত্রিপুরী ও খাসি জনপদ, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনির নামে আদিবাসী জনপদ আজ নির্যাতিত, রক্তাক্ত।
বনভূমি ও আদিবাসী জনগণের ওপর ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণের জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় বন আইন। নিদারুণভাবে সেই ঔপনিবেশিক আইনের বাহাদুরি এখনো বহাল। যে আইনের ধারাবাহিকতায় এখনো বানোয়াট বন-মামলা চলছে, অরণ্য পাড়ি দিচ্ছে প্রতিদিন এক যন্ত্রণাময় সময়। অবিভক্ত ভারতবর্ষে ১৮৭৮ সালে প্রথম বনসম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় আইন তৈরি হয়। বন আইনটির নাম রাখা হয়েছিল ‘ভারতীয় বন আইন ১৮৭৮’। পরবর্তী সময়ে ১৯২৭ সালে ব্রিটিশদের তৈরি করা বনশাসনের এই আইনটির কিছু রদবদল করে তৈরি হয় ‘ভারতীয় বন আইন ১৯২৭’। এই আইন দেশের বন ও বনবাসী জীবনের বৈজ্ঞানিক এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ককে বারবার লঙ্ঘন করেছে, চুরমার ও রক্তাক্ত করেছে। এই আইনটি প্রবর্তনের পর দেশের বনভূমি ও আদিবাসী জীবন তিনটি রাষ্ট্র গঠন দেখেছে। কিন্তু তার বাদেও এই ঔপনিবেশিক আইনের বাহাদুরি কোনো রাষ্ট্র থামায়নি। বহু তর্ক ও রক্তপাতের পর বাংলাদেশ ২০১২ সালে ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন’ চূড়ান্ত করে। শত বছর ধরে অস্বীকার করার পর এই প্রথম কোনো আইনে রাষ্ট্র বাধ্য হয়ে আদিবাসীদের পবিত্র বন, পবিত্র উদ্ভিদ এবং প্রথাগত সংরক্ষণ অধিকারকে স্বীকার ও সমর্থন করে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু ততদিনে আমরা হারিয়েছি ময়ূর, সর্পগন্ধা, মৌমাছি, উইঢিবি, বট, মথুরা, বনরুই, ধনেশ কিংবা হাতিদের সংসার। দেশের প্রাকৃতিক বনের বৈচিত্র্য ও বিন্যাস বিনষ্ট করতে রাষ্ট্র নানামুখী উন্নয়ন বাহাদুরি করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে প্রাকৃতিক বন কেটে আগ্রাসী গাছের ‘সামাজিক বনায়ন’ করা হয়েছে। শিক্ষাবিদ ড. সাদেকা হালিম, পরিবেশ গবেষক ফিলিপ গাইনদের বহু গবেষণা ‘সামাজিক বনায়নের’ রাজনীতিকে নানাভাবে তুলে ধরে প্রমাণ করেছে এসব কর্মকান্ড পরিবেশ ও আদিবাসী জীবন বিরোধী।
জাতীয় উদ্যান, অবকাশ যাপন কেন্দ্র, করপোরেট পর্যটন, ইকোপার্ক, ইকোট্যুরিজম ইত্যাদি জনবিচ্ছিন্ন প্রকল্পসমূহও আদিবাসীদের আরও বেশি বন-বিপন্ন করে তুলছে। ডুলাহাজারা থেকে শুরু করে রাথুরা শালবনের সাফারি পার্ক নামধারী প্রকল্পগুলো বহু বন্যপ্রাণী তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছে। এসব প্রকল্প ভূমি অধিগ্রহণের সময় স্থানীয় আদিবাসীদের প্রথাগত বন অধিকার ও বনের সঙ্গে সম্পর্ককে অস্বীকার করেছে। একইসঙ্গে আদিবাসী জনগণ প্রাণ-প্রকৃতি ও জঙ্গল সুরক্ষায় নানা সময়ে জীবনবাজি রেখে লড়েছেন। ইকোপার্ক-বিরোধী আন্দোলন কিংবা বান্দরবানে চিম্বুক পাহাড় রক্ষা; রাংটিয়া শালবন রক্ষা বা চীনামাটি বাণিজ্য থেকে সীমান্ত পাহাড় রক্ষার আন্দোলন। দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল কিংবা ‘পরিবেশবাদী নামধারী’ নাগরিক প্রতিক্রিয়াগুলোকে এসব আন্দোলন-সংগ্রামে খুব একটা তৎপর দেখা যায় না। হয়তো যার রক্তে জঙ্গল ডাক, জঙ্গল রক্ষার তাগিদ হয়তো এখনো সেই বেশি অনুভব করে।
লেখক : গবেষক